✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না। শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে লটারির মাধ্যমে।বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম শ্রেণি ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
এর আগে, গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারিপদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সে সময় মন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম।’
ওই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলে আসছিলেন, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা নতুন করে বাড়তে পারে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বাড়াবে। এরই মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোচিং কার্যক্রম শুরুর অভিযোগও ওঠে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সোমবার রাতে বলেছিলেন, “স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যায় কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেছিলেন, “ভর্তিতে পরীক্ষার বদলে লটারি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। লটারি বহাল রাখা যায় কিনা বা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখায় যায়, সে বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
