দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে তাকে শপথ পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে বঙ্গভনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করার সময় উচ্চস্বরে আগমন বার্তা দেওয়া হয়। এসময় বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। পরে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি রাষ্ট্রপতির অনুমতি চান। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াত হয়।

সন্ধ্যার আগে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর গাড়িবহর বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে আমন্ত্রণপত্র ও পরিচয় যাচাই করে অতিথিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

এরপর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দেন ৩৪৩ জন। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন।

দ্রৌপদী মুর্মু মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের জনজীবনের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের জনগণের সেবায় সফল মেয়াদের সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য। অভিন্ন ইতিহাসের ত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

দুই প্রতিবেশী দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অভিনন্দন বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। 

ফখরুলকে নতুন দায়িত্বের জন্য নেপালের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় নেপালের রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করেন।

রামচন্দ্র পৌডেল নেপাল ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নেপালের রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ নেপাল ও বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ফখরুলকে জারদারির অভিনন্দন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিনন্দন বার্তায় জারদারি আস্থা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্রপতি ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে এবং জনগণের কল্যাণে আরও অগ্রগতি অর্জন করবে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতি স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

জারদারি বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে তার সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জারদারি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে তার দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *