✍︎ লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ✍︎
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মেঝো বোন কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। নিহত ঘাতক যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।
বিকেলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, আহত পাঁচজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল। মেজো মেয়ে ইকরার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে দেখা যাচ্ছিল।
তিনি জানান, হাসপাতালেই প্রথমে শাহিনুর এবং তার বড় মেয়ে সায়মা ও ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সেখানে পৌঁছানোর আগেই তারও মৃত্যু হয়।
ডা. বাহারুল আলম জানান, ঘাতক অন্তর মজুমদারের মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তারও মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, অন্তর মজুমদার দেড় বছর ওই ভবনে ভাড়া ছিল। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে চলে যায়। পূর্বপরিচিত হিসেবে এসে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। স্বজনরা এলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ছেলে সিফাত মা ও তিন বোনকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার কারণ জানাতে পারেনি কেউ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে তিনি পথে মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে ৭ জন সদস্য আহত হয়।
পুলিশ সুপার আবু তারেক ৪ জন নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনো ঘটনার কারণ জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
