✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ডাকা হয়। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়।
গত ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার ও একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করে জামায়াত।
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়।
ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। তখন তার মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে বলে মামলার বিবরণে জানানো হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
