গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

রোববার গভীর রাতে মরিয়ামের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে তারা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যায়। রাত ১০টার দিকে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরিয়ামের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বাসায় ছিলেন। কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে তাকে ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয়। পরে মরিয়ামের বাবার করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমান মামলার তৃতীয় আসামি।

মরিয়ামের মৃত্যুর আগে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে মরিয়ামকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের সম্মতিতে মরিয়ামকে বিয়ে করেন।

গত ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার ও একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করে জামায়াত।

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়।

ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। তখন তার মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে বলে মামলার বিবরণে জানানো হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *