নবম পে স্কেলের সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগে সুবিধা পাবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত পৌনে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দুই মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, সরকারি পর্যায়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর আলোচনাও রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এমপিভুক্ত ২৬ হাজার ৯৩টি প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে, তা গিয়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়।

ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে হতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের ২৯ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায়।

একইভাবে, নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের বর্তমান ২২ হাজার টাকার বেতন বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ২৪ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দুই ধরনের হিসাব সামনে এসেছে। একটিতে ৫০ শতাংশ এবং অন্যটিতে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে, তা হবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। শতভাগ কার্যকর হলে তা গিয়ে দাঁড়াবে ২৫ হাজার টাকায়। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৬০০ টাকায়।

একইভাবে, ১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ১০০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর শতভাগ কার্যকর হলে তারা পাবেন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।

বেতনের পাশাপাশি বাড়ছে এমপিওভুক্তদের বাড়িভাড়া ভাতাও। গত বছরের ২১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে মোট ১৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।

প্রথম ধাপে গত বছরের নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া কার্যকর হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় ধাপে, আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়াবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশে। তবে সর্বনিম্ন ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বৈষম্যের শিকার। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বাজেটে সরকার বেতন বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *