লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

মঙ্গলবার ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পূর্বেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সমগ্র আরাফাত প্রান্তর।

ভোর থেকেই হাজিরারা ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মগ্ন রয়েছেন। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান ফরজ এবং হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

এর আগে সোমবার মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর হাজিরারা মিনার তাঁবু নগরী থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আজ মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরারা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।

সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা মুজদালিফায় গমন করবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপনের পর মিনায় ফিরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও কাবা শরিফে তাওয়াফসহ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধিত হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী। এছাড়া সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজিদের অংশগ্রহণে আরাফাতে উপস্থিত মুসল্লির সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়’কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই প্রান্তরেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। 

মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) পালিত হবে পবিত্র হজ। সারা বিশ্ব থেকে আগত লাখো মুসলিমের তালবিয়া–‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান। হাজিরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই পুণ্যভূমিতে অবস্থান করবেন।

গতকাল সোমবার (৮ জিলহজ) মিনায় অবস্থানের মাধ্যমে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ভোর থেকে লাখো মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে তাঁবুর নগরী মিনা। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রবিবার রাত থেকে ধাপে ধাপে হাজিরা মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হন।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হাজিরা এখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং ৯ জিলহজের ফজর–এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এরপর আজ সকালে তারা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হবে এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন হাজিরা। আরাফাতে অবস্থান করাকেই হজের মূল অংশ (ফরজ) হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিকে মিনার বিভিন্ন তাঁবুতে গিয়ে বাংলাদেশি হাজিদের খোঁজখবর নিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি হাজিদের সার্বিক অবস্থা, থাকা-খাওয়া ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে খোঁজ নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিনায় বাংলাদেশি হাজিদের জন্য পাঁচ হাজার প্যাকেট উন্নত মানের খাবারও সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের মিনায় পৌঁছে দেওয়া, তাঁবুতে অবস্থান, পরিবহন ও সার্বিক সেবাব্যবস্থার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ব্যাপক তদারকি চালানো হচ্ছে। 

তীব্র গরমের কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁবুর বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বেশি বেশি পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *