✍︎ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ✍︎
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়িবহরে হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানা মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত ৮টায় তাদের পুলিশ উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। হামলায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদের বহনকারী গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার সময় থানা মোড় এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
বিকাল সাড়ে ৫টায় জেলা শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে নেতারা বক্তৃতা করেন। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় তারা সার্কিট হাউসে ফিরছিলেন। তারা সদর হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছলে একদল যুবক ধাওয়া দেয়। তখন তাদের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়।
এ ঘটনায় রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জে অবস্থানরত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই ন্যাক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক
জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায় তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না। তবে আজকে অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর আমি শুনেছি। এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ মানুষজন ধাওয়া দিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হকের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করেছেন এনসিপি নেতারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেছেন, এনসিপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এই পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাঁদের ওই বক্তব্যের কারণে নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম মঙ্গলবার হবিগঞ্জ আসেন। সকালে তারা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশও হয়।
