কারসাজি হলে ব্যবস্থা নেবেন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাজারের কারসাজিকারকদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

এ সময় তিন কমিশনার নাফিজ আল তারিক, নাহিদ মাহতাব ও তানভীর হাবিব রহমান তাঁর পাশে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালকসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাজারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাব। যেখানে প্রয়োজন সেখানে কঠোর ও স্মার্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। আর যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে সহজ করে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজারকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজড করতে কাজ করবে এই কমিশন। এমন একটি কমিশন আমরা গড়ে তুলতে চাই, যেটি হবে প্রযুক্তিনির্ভর। কাজ হবে দ্রুত ও অংশীজনদের জন্য সহজ।’

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাজারের কারসাজিকারকদের জন্যও কঠোর বার্তা দেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে রিয়েল টাইম বা প্রকৃত সময়ভিত্তিক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারসাজিকারকদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শাস্তির মুখোমুখি হবে এবং সেটি হবে রিয়েল টাইম ব্যবস্থা। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর শুরু থেকে বিশেষ নজরদারি করা হবে। বিএসইসির সব ধরনের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা।

বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, শেয়ারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা বাজারের উত্থান-পতন ঠেকানোর কৃত্রিম কোনো ব্যবস্থা বা পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হবে কমিশন। শেয়ারের বাজারভিত্তিক ন্যায্যমূল্য যাতে নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে এই কমিশন। প্রায় ৩০ মিনিটের লিখিত বক্তব্যে নতুন চেয়ারম্যান বাজার নিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের দর্শন ও পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, নতুন কমিশনের দর্শন হচ্ছে প্রথমে স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ, তারপর ডিজিটালাইজেশন, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ধারাবাহিকভাবে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে নতুন কমিশন।

তিনি বলেন, আমরা সরকার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে একটি সমন্বিত “তালিকাভুক্ত কোম্পানি সুবিধা কর্মসূচি” (Listed Company Advantage Programme) প্রণয়নের উদ্যোগ নেব।
এর আওতায় থাকতে পারে—
• তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর হারের আরও বড় পার্থক্য;
• পৃথক কর প্রশাসন ব্যবস্থা;
• ঝুঁকিভিত্তিক কর মূল্যায়ন;
• অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্ত অডিট হ্রাস;
• দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা;
• মূলধন সংগ্রহের সহজতর প্রক্রিয়া;
• দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা;
• এবং অন্যান্য নীতিগত সুবিধা।
এসব সুবিধার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উচ্চতর সুশাসন ও তথ্য প্রকাশের মানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
কর্পোরেট বাংলাদেশের প্রতি আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—
একটি ভালো কোম্পানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হওয়া উচিত।

দুপুরে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ক্রাউন সিমেন্টের গ্রুপ সিইও এবং বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। আর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা তানভীর হাবিব রহমান ও ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ আল তারিক। তাঁদের সবাইকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। কমিশনাররা হচ্ছেন, মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *