✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
নতুন বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন পর্যায়ের বর্তমানে যাঁরা ৯ হাজার টাকা পেনশন পান, তাঁরা এখন পাবেন ১৮ হাজার টাকা। আর বর্তমানে সর্বোচ্চ যাঁরা মাসে ৪০ হাজার ১ টাকা থেকে তার বেশি পেনশন পান, তাঁরা পাবেন ৭০ হাজার ২০০ টাকা টাকা।
মন্ত্রিসভা গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সেদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন (ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন-ওআরওপি)’ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ পদ্ধতি সামরিক ও বেসামরিক—সব ক্ষেত্রে একই সঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন।
তবে এই পদ্ধতি চালু করতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। সেই সঙ্গে বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসর গ্রহণকারীদের তথ্য না থাকায় এ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর পেনশনসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, পেনশন ও গ্রাচুইটি বা আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা যে নিট পেনশন পেতেন, তার ভিত্তিতে নতুন করে নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে।
পেনশন বাড়বে যেভাবে
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাদের নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম ছিল, তাঁদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। তাদের নতুন নিট পেনশন হবে সর্বনিম্ন ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। এই শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা।
৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেননপ্রাপ্তদের পেনশন বাড়বে ৬০ শতাংশ। তাদের নতুন নিট পেনশন হবে সর্বনিম্ন ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা।
আর ৪০ হাজার ১ টাকা ও তার বেশি নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি পেনশনে বিশেষ বিধান
যেসব অবসরভোগী ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তারা ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।
১ জুলাই থেকেই কার্যকর
নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রথমে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। অর্থাৎ নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই সংশ্লিষ্ট অবসরভোগীদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান কার্যকর হয়েছে।
এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কর্মরত কোনো কর্মচারী (স্বামী বা স্ত্রী) মৃত্যুবরণ করলে প্রচলিত পারিবারিক পেনশন বিধি অনুযায়ী তার পরিবার পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা পাবে।
অবসর-উত্তর ছুটি ১২ মাস, নগদায়ন ১৮ মাস
নতুন কাঠামোয় অবসর-উত্তর ছুটি ও ছুটি নগদায়নের সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে। ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে কোনো কর্মচারী পূর্ণ গড় বেতনে ১২ মাসের অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে অবসর গ্রহণের সময় ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধাও পাবেন।
পেনশন, গ্রাচুইটি ও সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিধান ও আদেশ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস, ১৯৭৯-এর সর্বশেষ সংশোধনী, দ্য পেনশনস অ্যাক্ট, ১৮৭১, পেনশন রুলস অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস-এর সর্বশেষ সংশোধনী এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০সহ অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট আদেশ ও স্মারক রয়েছে।
