■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মাথার হাড়, নাক ও ডান পাশের চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। মাথায় আঘাতের কারণে সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং এক চোখে মারাত্মক ক্ষতি দেখা দিয়েছে।
নুরুল হক নুর গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন, তবে চিকিৎসকেরা তাকে এখনও শঙ্কামুক্ত বলতে পারছেন না।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢামেকের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে নুরুল হককে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় তার নাক থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে রাখা হয়েছিল। দ্রুত তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
ডা. মোস্তাক বলেন, রাতে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সকালে মাথার সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেছে, তার মাথার হাড় ও চোয়ালের হাড় ভেঙেছে। নাকের হাড়ও ভেঙে গেছে। মাথার ভেতরে সামান্য রক্তক্ষরণ রয়েছে। চোখ-মুখ ফুলে গেছে এবং চোখের ভেতরে রক্ত জমেছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাত পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসক আরও জানান, নুরুল হকের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও তা যেকোনো সময় সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। “আলহামদুলিল্লাহ, তিনি স্থিতিশীল আছেন। কিন্তু মস্তিষ্ক ও চোখে আঘাত থাকায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে,” বলেন কর্তব্যরত এক চিকিৎসক।
নুরুল হক নুরের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। বোর্ডে নিউরোসার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, ক্যাজুয়ালটি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা যুক্ত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে তার চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকেরা মনে করছেন, নুরুল হকের কোনো বড় ধরনের অস্ত্রোপচার আপাতত প্রয়োজন হবে না। তবে তার অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
গণঅধিকার পরিষদ বলেছে, গতকাল সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে জাতীয় পার্টি বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বাড়ান। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান।
জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।