𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎
বাংলাদেশে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং’ বা ‘মডি’ (MODY) নামের বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এক গবেষণায় এ দাবি করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের শরীরে এ ধরনের ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার বিএমইউর শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং’ বা মডি-সংক্রান্ত কিছু জিনে পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা এই রোগের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব জিনগত বৈশিষ্ট্য পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কম পরিচিত জিনে এ পরিবর্তন দেখা গেছে। ফলে শুধুমাত্র ক্লিনিক্যাল লক্ষণ দেখে মডি ও অন্যান্য ডায়াবেটিস আলাদা করা চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
তাঁরা আরও জানান, এই ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। চিকিৎসা ব্যবস্থায় সরাসরি প্রয়োগের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। কারণ, মডি ডায়াবেটিস টাইপ-১ বা টাইপ-২-এর মতো প্রচলিত শ্রেণিতে পড়ে না, অথচ সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
‘ডিসেমিনেশন অব পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ অব ডা. মাশফিকুল হাসান’ শীর্ষক এই আয়োজনে জানানো হয়, দেশে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাসের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিসের জিনগত গঠন অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা হতে পারে। ফলে বিদ্যমান নির্ণয় পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন গবেষণা ও উপযোগী সমাধান উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশে জেনেটিক গবেষণা পরিচালনা করা কঠিন হলেও রোগীর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসানসহ অন্যান্য বক্তারা অংশ নেন।
