প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৭ স্মারক

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে অন্তত ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। নদী ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি বিনিয়োগ, সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের চার বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি থাকবে সফরের মুখ্য আলোচনায়।

রোববার প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখান থেকে যাবেন চীন। ২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন উপলক্ষে অবস্থান করবেন চীনের ডালিয়ান শহরে। ২৪ জুন শুরু হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক চীন সফর। ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জোড়া সফর উপলক্ষে শনিবার ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচনায় তিস্তা মহাপ্রকল্প, সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগের যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ থাকবে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আশা করছি, ১৫ থেকে ১৭টা দলিল চীনের সঙ্গে স্বাক্ষর হবে। ১৩টা এমওইউ, দুটি চুক্তি, একটা অ্যাকশন প্ল্যান এবং আরেকটা প্রটোকল।’

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২২ জুন চীনের ডালিয়ানে গিয়ে পরের দুদিন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজনে যোগ দেবেন। ২৪ থেকে ২৬ জুন বেইজিং সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং সফরের শেষদিন চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।

যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীনা বাঁধ নির্মাণের প্রসঙ্গ ধরে পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প ও তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে করা প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা বা ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট একটা আলোচনার বিষয় এবং আমি ধারণা করি সেই আলোচনা অনেক বিস্তৃত এবং সম্প্রসারিত। সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেই আমি ধারণা করি। আমরা তুলব তিস্তা প্রসঙ্গ । সে ক্ষেত্রে অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনা বা ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্র থেকে আরও আলোচনা বিস্তৃত হবে।’

বাংলাদেশ সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অর্থায়নের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। একটা স্টাডি হয়েছে, আমরা সেই বেশ কিছু আগে, সেই ফিজিবিলিটি স্টাডিটা আমরা রিভিজিট করেছি। কিন্তু রিভিজিট করার পর, আবার যেটা বললাম রিজার্ভার, ড্যামের সাইজ- এগুলো আসলে তারপর সমস্ত আলোচনা হবে। সুতরাং এখনো আমরা সেই স্টেজে নাই।’

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিজের পররাষ্ট্রনীতি সংহত করতে চারটি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। সেগুলো হলো- গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)।

বাংলাদেশ এসব উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না, সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্ট যে চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ নিয়েছেন, সেগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সেগুলোয় যোগদানের বিষয় বিবেচনা করছে। আমরা সফরের পরে বলতে পারব যে কয়টা উদ্যোগে আমরা যোগ দিচ্ছি বা যোগ দিচ্ছি না। তবে আমরা এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা এই চারটি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং বিশ্ব নিয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যে নতুন চিন্তাভাবনা করছেন, সেটাকে আমরা মনে করি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’

সামরিক কেনাকাটার বিষয়ে সফরে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সামরিক কেনাকাটার বিষয়ে আলোচনা কর্মকর্তা পর্যায়ে হয়ে থাকে। সামরিক ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় একটা সম্পর্ক রয়েছে। ক্রয়-বিক্রয় করব কিনা, লিডারশিপ পর্যায়ে ওগুলো আলোচনা হয় না, সেগুলো অপারেটিভ লেভেলে হয়। নিশ্চয়ই আমরা দুই পক্ষের সামরিক সহযোগিতা যেটা আছে, সেটা নিয়ে আলোচনা করব।’

বাংলাদেশে চীন নতুন অর্থায়ন করবে কি না এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘চীন বাজেট সাপোর্টে অর্থায়ন করে না। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ আকারে অর্থায়ন আসতে পারে। সরকারপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকে অর্থায়নের পরিমাণ ও খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না। সেগুলো মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ে আলোচনায় হয়। কোনো প্রকল্পে যুক্ত হতে চায় কি না সেটা বৈঠকে আলোচনা হয়।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *