জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন ৫ আগস্ট

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

আগামীকাল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। এদিন সকাল ৯টায় এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরদিন ৬ আগস্ট থেকে জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিচারণ করবেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জুলাই জাদুঘর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি বর্ণাঢ্য কনসার্টের আয়োজন রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জাদুঘরকে আরও সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ করা হবে।

জাদুঘরের প্রবেশাধিকার নিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার জাদুঘরটি শুধু শহীদ পরিবারের সদস্যদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ধারিত টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।

তিনি জানান, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাদুঘরের মহাপরিচালক অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’-কে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। এই জাদুঘরে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসের পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলের নানান দমন-পীড়নের দলিল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যও স্থান পাচ্ছে। শিক্ষার্থী, গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুর এবং অনলাইন টিকিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণভবনের আয়তন ১৭ দশমিক ৬৮ একর। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর মোট বরাদ্দ পেয়েছে ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অব্যয়িত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *