✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া এবং মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজ-এর করা মামলায় শাহরিয়া মাহমুদ এক নম্বর আসামি। রোববার রাজধানীর বেইলি রোড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, স্টুডিওর জমির মালিক নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার দিবাগত রাতে ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমানের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ ও নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসসহ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর হয়। পরে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তোলেন সালমান।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘৩৫ কাঠার একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ আবাসন কোম্পানি এবং অন্য পক্ষ অবসরপ্রাপ্ত একজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কয়েকজন রাতে জমিটি দখল করতে গিয়ে ভাঙচুর চালায়।’
বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চাঁদাবাজ দল এই ঢালাও অভিযোগের কোনো মানে নেই। সুনির্দিষ্ট মামলা করলে তা তদন্ত হবে।’ তিনি জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকায় আসেন। পরে স্টুডিওতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখে ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।
ভিডিওতে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’
সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ আ নরমাল সিটিজেন হিসেবে। …আমাদের এখানকার যে ল্যান্ডওনার, উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে—চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং…। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’
সালমান জানান, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ নানা কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব মালামাল নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি তিনি।
ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো।
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’
তবে সালমানের এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পরও কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন সালমান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’
