লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর লঞ্চের ভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া দুই টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে দুই টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চার টাকা দুই পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর এ প্রস্তাব দেন। চিঠিতে বলা হয়, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে এক টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে তা ৫১ শতাংশ ও ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে একই হারে বাড়ালে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, গত রোববার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দাবি, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ ও বার্থিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা ও নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে, রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয়ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করেছে লঞ্চমালিকদের সংগঠনটি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে, লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই অবস্থায় লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীর ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন অথবা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *