✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অখিলেশ যাদবকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয় পুলিশ।
কিন্তু তারা স্থান ত্যাগ না করলে আটক করে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। তাদের ছাড়াও আরও কয়েকজন কংগ্রেসে নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে এখন পর্যন্ত জানা গেছে।
রাহুল গান্ধীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, দিল্লি পুলিশ তা কংগ্রেসকে জানাতে চাইছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতা পবন খেরা। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের জানাতে চাইছে না, তারা রাহুলকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।’
সোমবার ভারতের সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পথযাত্রায় পুলিশি অ্যাকশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাজপথে নামেন কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা। তারা ছাত্রদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসতা ও বলপ্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত গণমিছিল করেছি।’
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, কিংবা সংসদে এ নিয়ে কোনো গঠনমূলক বিতর্কেও জড়াতে রাজি নয়। ভারতের কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ এভাবে ধ্বংস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারকে সরাসরি দায়ী করে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা মোদিবিরোধী নানা স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সরাসরি এই বিক্ষোভ ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
কংগ্রেস এমপিদের পাশাপাশি দুই কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেরালার ভিডি সতীশন এবং কর্নাটকের ডিকে শিবকুমারও মঙ্গলবার যোগ দিয়েছেন রাহুলদের বিক্ষোভে। প্রধানমন্ত্রী মোদির লোককল্যাণ মার্গের বাংলো এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করার পরে তাদের সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে থাকা ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এর পরে বিক্ষোভ-অবস্থানস্থল থেকে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে আবার লোককল্যাণ মার্গে ফিরে যান জিতেন্দ্র। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য অমিত শাহর নির্দেশনার কথা জানান কংগ্রেস নেতাদের।
কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বরফ গলেনি’। রাহুলরা চার দাবিতে রাতভর অবস্থান কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি, পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদি সরকারের ক্ষমা, সংসদে অমিত শাহ বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেই দাবি মানার বার্তা দেয়নি মোদি সরকার। জিতেন্দ্রর দাবি, সরকার প্রথমে কংগ্রেসের প্রাথমিক দাবি (সংসদে নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আলোচনা) মানার কথা জানায়। কিন্তু পরে অতিরিক্ত শর্ত দেয় রাহুলরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন তারা।
আটকের আগে কংগ্রেস এমপি সুখজিন্দর সিং গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এমপিদেরই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ছাত্রদের সঙ্গে কী হচ্ছে ভেবে দেখুন।’ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সাড়ে সাতটা) পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে বাকিদেরও সরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, আজ দিল্লি হাইকোর্ট অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দমতো দিল্লির মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছেন। এর আগে ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন একক বিচারপতির একটি বেঞ্চ। ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করেছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। সেই আপিলের শুনানি শেষেই আদালত এ নির্দেশ দেন।
