বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

■ ক্রীড়া প্রতিবেদক ■

সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে পাত্তাই দিলো না রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে বিপিএলের ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

এদিকে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা। রাজশাহীর সমান দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী। তানজিদের ঝড় ও সাহিবজাদার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন ফারহান।

দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন উইলিয়ামসন।

এদিকে আপনতালে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিপিএলের এবারের আসরে এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। আর বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। 

শেষ পর্যন্ত তানজিদের ইনিংস থামে ১০০ রানে। মাত্র ৬২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও সাতটি ছয়ে সাজানো। আর দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। এদিকে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম।

চট্টগ্রাম রয়্যালসের সফল বোলার শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার। ১০ বলে ৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর ২ বল খেলে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। এদিকে হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১১ রান।

চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নামেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামান। তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যান মির্জা বেগ। কিন্তু দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। আর আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ।

আসিফ আলী ও আমির জামাল আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারননি আমির। একটি ছক্কা হাঁকানোর পর জিমি নিশামের বলে আউট হন ব্যক্তিগত ৮ রানে। অন্যদিকে ১৬ বলে ২১ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন আসিফ আলী। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসান ৪, শরিফুল ইসলাম ০, তানভীর ইসলাম ১ ও মুকিদুল ইসলাম ১ রান করেন।

রাজশাহীর পক্ষে ৩ ওভারে মাত্র ৯ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। তিনটি উইকেট নেন হাসান মুরাদ। এছাড়া জিমি নিশাম দুটি ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট পেয়েছেন।

চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *