✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। ফরেনসিক ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা রামিসাকে ধর্ষণ করেছিল। ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
শনিবার (২৩ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শিশুটির ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোববার (২৪ মে) আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এরইমধ্যে অভিযোগপত্রের খসড়া তৈরি সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্র জমা দেয়ার জন্য কাজ চলছে। সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়্যারে ডেটা এন্ট্রি করাসহ কিছু কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করেই এটি আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। এরপর রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। আদালত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পরপরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার বিচার দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
পল্লবীর একটি বাসায় গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশীর ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর বালতি থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে শৌচাগারে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলেছেন। পরে লাশ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটেছেন, কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেছেন। এরপর শিশুটির বাবা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ স্বপ্না ও সোহেলকে গ্রেফতার করে। পরদিন বুধবার (২০ মে) ভোরে শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।
শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর বাসার দরজা খোলার পর শিশুটিকে দেখে তাঁর বিকৃত মানসিকতা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় শিশুটিকে ডেকে শৌচাগারে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। শিশুটি বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সোহেল। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন। এরপর শিশুটির মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করেন তাঁরা। এ ছাড়া দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ শোয়ার ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় শিশুটির মা দরজায় নক করছিলেন। আসামি সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিতে স্বপ্না দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা খোলেননি। এই সুযোগে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এরপর স্বপ্না দরজা খোলেন।
