✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার ৫ নম্বর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাদিক আহম্মেদ সোমবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
সাহেদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন। তিনি বলেন, মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মামলাটি যখন হয় তখন তিনি কারাগারে ছিলেন। সে সময় মামলাটিতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের সাজা দেন এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এখন যেহেতু উনি কারাগারে গেছেন আমরা আপিল করব।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ব্যবসার জন্য মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক কাছে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋন নেন। ব্যাংক ঋনের বিপরীতে সিকিউরিটি জন্য ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ একটি চেক জমা দেন। পরে সেই ঋনের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করেন। ওই ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারায় আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।
মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৪ মে তাকে এই মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
করোনারভাইরাস নমুনাশনাক্ত করণ পরীক্ষায় জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে আলোচনায় আসা সাহেদকে সকালে রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে পল্লবী থানায় সোপর্দ করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
সাহেদের নাম প্রথমবার আলোচনায় আসে কোভিড মহামারীর সময়ে ২০২০ সালের ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালান র্যাব। হাসপাতাল থেকে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে সাহেদসহ ১৭ জনের নামে করোনার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে।
মামলার ৯ দিনের মাথায় ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে সংস্থাটি।
পরে সাহেদের বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এক মামলায় ২০২৩ সালের ২১ অগাস্ট সাহেদকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত। আর ১৪ বছর আগে ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তার ছয় মাসের সাজা হয়েছিল।
সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনেও একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় সিআইডির প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আসামি সাহেদ মানুষ ঠকিয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছিলেন।
