স্মরণ: স্কোয়াড্রন লিডার সরফরাজ আহমেদ রফিকী

✍︎ ফারদিন আহমেদ ✍︎ 

স্কোয়াড্রন লিডার সরফরাজ আহমেদ রফিকী (এইচজে এসজে) ছিলেন একজন পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান চালক, যিনি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় দুটি আকাশযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে হিলাল-এ-জুরাত (সাহসের অর্ধচন্দ্র) এবং সিতারা-এ-জুরাত (সাহসের তারকা) উভয় সামরিক পুরস্কারে ভূষিত হন।

কিন্তু আপনি কি জানতেন যে তিনি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

সরফরাজ আহমেদ রফিকী ১৯৩৫ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বড় ভাই ‘ইজাজ রফিক’-এর অনুপ্রেরণায় সরফরাজ রয়্যাল পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের ১৩তম জিডিপি কোর্সে যোগদান করেন এবং ১৯৫৩ সালে রিসালপুর একাডেমি থেকে স্নাতক হন।

১৯৬২ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবস্থিত ১৪ নম্বর স্কোয়াড্রনের অফিসার কমান্ডিং হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৬৩ সালে তাঁকে পিএএফ বেস সারগোধায় পিএএফ-এর ৫ নম্বর স্কোয়াড্রনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বদলি করা হয়, যেটির কমান্ডে তিনি আমৃত্যু ছিলেন।

রফিকীকে মরণোত্তর হিলাল-এ-জুরাত এবং সিতারা-এ-জুরাত পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর তৃতীয় বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি, পিএএফ বেস শোরকোট, তাঁর সম্মানে পিএএফ বেস রফিকী নামে নামকরণ করা হয়। লাহোর ক্যান্টনমেন্টের অন্যতম বৃহত্তম একটি রাস্তার নাম সরফরাজ রফিকি রোড এবং করাচির রফিকি শহীদ রোডও তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। পিএএফ বেস পেশোয়ারে, যে রাস্তার উপর রিয়ার এয়ার হেডকোয়ার্টার্স এবং ফাজাইয়া ডিগ্রি স্কুল ও কলেজ অবস্থিত, সেই রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছে এই যুদ্ধবীরের সম্মানে রফিকি লেন।

পাকিস্তান সরকার রফিকির বাবা-মায়ের উইলকৃত ৭৭ একর উৎকৃষ্ট কৃষি জমি সরফরাজ রফিকি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে প্রদান করে।

প্রশংসাপত্র

স্কোয়াড্রন লিডার সরফরাজ আহমেদ রফিকি

৫ম স্কোয়াড্রন পিএকে/১৪২৯

১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, স্কোয়াড্রন লিডার সরফরাজ আহমেদ রফিকি হালওয়ারা বিমানঘাঁটিতে আক্রমণের জন্য ৩টি এফ-৮৬ বিমানের একটি ফরমেশনকে নেতৃত্ব দেন। ফরমেশনটি প্রায় ১০টি হান্টার বিমানের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে স্কোয়াড্রন লিডার রফিকি প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি বিমান ভূপাতিত করেন। কিন্তু এরপর একটি ত্রুটির কারণে তার বন্দুকগুলো জ্যাম হয়ে যায় এবং গুলি চালানো বন্ধ হয়ে যায়। তবে, রফিকি যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন, যদিও তা করলে তিনি সম্পূর্ণ সঠিক কাজই করতেন; পরিবর্তে তিনি তার নং ২-কে নেতার দায়িত্ব নিতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন, আর নিজে একটি নিরস্ত্র বিমান দিয়ে যতটা সম্ভব ফরমেশনটিকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্কোয়াড্রন লিডার রফিকির এই কাজটি ছিল অত্যন্ত জরুরি। তার পরিণতি নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না, কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এই প্রক্রিয়ায় তার বিমানটি গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হয় ও তিনি নিহত হন, কিন্তু তার আগেই তিনি তার ফরমেশনকে আরও ৩টি হান্টার বিমান ভূপাতিত করার সুযোগ করে দেন। রফিকির এই আচরণ নিঃসন্দেহে কর্তব্যের ঊর্ধ্বে ছিল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুদ্ধে নেতৃত্ব ও সাহসিকতার সর্বোচ্চ ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। এই এবং তার পূর্ববর্তী বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাকে হিলাল-ই-জুরাত এবং সিতারা-ই-জুরাত পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *