বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হতে পারেন দলটির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। 

এ নেতা তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।যদিও পরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিএনপির সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে রিজভী আহমেদের। 

বিএনপিতে আলোচনা আছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। দলের মহাসচিবের দায়িত্ব তখন শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, সরকারের সঙ্গে দলীয় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসাবে তিনি সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।

রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হলে ফখরুল মহাসচিবসহ দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, দলের পরবর্তী মহাসচিব রিজভী আহমেদ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ আছে।

যদিও সরকার গঠনের আগের আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সরকারে তারা এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে তুলনায় রিজভীর ব্যস্ততা কিছুটা কম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক যোগাযোগে তার অবদান রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসাবে রিজভীর নামই সামনে আসছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৯ সালে রাকসু ভিপি নির্বাচিত হন রিজভী। একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে পালন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে দায়িত্ব। 

বিএনপির সর্বশেষ ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত ১০ বছর ধরে তা হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের পরবর্তী কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই কাউন্সিলেই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন। আগামী ১২ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। মির্জা ফখরুল বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৬ সাল থেকে দলটির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে ২০১১ সালে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এটি প্রায় নিশ্চিত।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *