✍︎ ক্রীড়া প্রতিবেদক ✍︎
কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারও গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আলাদা করে লিখিয়ে নিলেন। মেসি এবার ফিরলেন খালি হাতে। বিশ্বকাপ ধরে রাখার আশায় মাঠে নেমে তাঁর দল আর্জেন্টিনা হলো রানার্সআপ। এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে হেরে মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো সিলভার বুট নিয়ে।
সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। চোখধাঁধানো গোল নেই, ঝলমলে ড্রিবলিং নেই—তবু গোটা টুর্নামেন্টে স্পেনের প্রতিটি জয়ের সুতো বাঁধা ছিল তাঁর পায়েই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিমানবীয় খেলেছেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি এমবাপ্পের আগে কারও ছিল না। ১০ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শেষ করলেন টুর্নামেন্ট, ছাড়িয়ে গেলেন কাতারে করা তাঁর ৮ গোলের কীর্তি। ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন ফরাসি অধিনায়ক। ২১ গোল নিয়ে শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ-অধ্যায়।
এবার ব্রোঞ্জ বুট পেলেন ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের কারিগর জুড বেলিংহাম। ৭ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট তাঁর। সমান ৭ গোল নরওয়ের আর্লিং হলান্ডেরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে বেলিংহাম এগিয়ে।
এমবাপ্পের ছুঁয়েছেন আরও একটা মাইলফলক। বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোল—এমনটা এর আগে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭০ সালে, জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার গড়েছিলেন সেই কীর্তি। ৫৬ বছর পর, আবার সেই সংখ্যায় পৌঁছালেন এমবাপ্পে। অবশ্য এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা এখনো অক্ষত। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সেরই জুস্ত ফন্তেইন করেছিলেন ১৩ গোল!
স্পেনের রক্ষণ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেই কথা হবে বহুদিন। টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিন শিট রেখে, মাত্র একটিমাত্র গোল হজম করে তাদের গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতে নিলেন গোল্ডেন গ্লাভ। এই পথচলায় টানা ৬৪৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রেখে বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিলবাওয়ের গোলরক্ষক। আসলে প্রায় সব পুরস্কারে এবার স্পেনের জয়জয়কার। মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি জিতেছেন এই বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণকে দুর্গ বানিয়ে রেখেছিলেন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে একটা নতুন রীতিও চালু হলো এবার। চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলকে ফিফা তুলে দিল চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। সঙ্গে পাঁচ কোটি ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সর্বোচ্চ।
