রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অনুমোদন

✍︎ পাবনা প্রতিনিধি ✍︎

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রোসাটম।

রসাটম ফুয়েল ডিভিশনের অধীনস্থ নাভআসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালানটি সম্প্রতি একটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

ইউনিটের-১-এর প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ জ্বালানির সব চালান সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে। রিঅ্যাক্টরের প্রথম জ্বালানি চক্র সম্পন্ন হওয়ার পর এই রিফুয়েলিং হওয়ার কথা রয়েছে।

রূপপুর প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানোর পর জ্বালানি কন্টেইনারগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংরক্ষণাগারে স্থানান্তর করা হয়। প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে সব জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলোকে বাধ্যতামূলক ভিজুয়াল এবং ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে বাংলাদেশ, জেনারেল কনট্রাক্টর এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিশনের মাধ্যমে এ পরিদর্শন পরিচালিত হবে।

২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন ইউনিট-১-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রারম্ভিক লোডিং সম্পন্ন করে। এরপর রিঅ্যাক্টরটি এ মাসেই তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে পৌঁছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ এবং পরবর্তী পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক অপারেশনের আগে, ইউনিটটিকে পাওয়ার অ্যাসেনশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এনপিপিতে রাশিয়ার নকশাকৃত দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন এ প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার এবং প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে কমিশনিং কার্যক্রম দুই মাসের বেশি সময় পিছিয়ে যায়। বি-২ লাইসেন্স পাওয়ার মাধ্যমে সেই বাধা দূর হলো।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এটি নির্মাণ করছে।

১২শ মেগাওয়াট ধারণ সম্পন্ন ২টি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩ সালে। রাশিয়ার সহযোগিতায় এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *