চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ

✍︎ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ✍︎

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সবকটি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এসব কারখানার শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয় এবং শুক্রবার থেকে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সারা দেশে এস আলমের অন্যান্য কারখানাতেও শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ইস্পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল, ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েল।

এস আলম গ্রুপের আটটি কারখানার চার হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। কয়েক বছর ধরে এসব কারখানা আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল সংকটসহ নানা কারণে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।এত দিন মজুত করা কাঁচামাল দিয়ে কোনো রকমে উৎপাদন চালিয়েছিল কারখানাগুলো। 

কারখানাসংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা বলেন, গতকাল দুপুরে কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। আকস্মিক ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের দাবি, শুধু এস আলম সুগার নয়, সবকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকেরা জানান, গতকাল দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ এক কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি কারখানার মধ্যে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৫০০ জন, আর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় ২০০। অন্যান্য কারখানায় সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় একের পর এক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও কার্যক্রম একেবারে বন্ধ ছিল না। তবে এবারই শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের পর সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’

এস আলম গ্রুপের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ। বন্ধ ঘোষণা এক বিষয়, শ্রমিকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়ে ছাঁটাই করা আরেক বিষয়। যেহেতু কারখানার কাঁচামালের মজুত শেষ, নতুন এলসি ওপেন করা যাচ্ছে না তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শ্রমিককে এক দেড় বছর বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়া হয়েছে। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *