স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ৫ দিন পর জামিনে কারামুক্ত সাদ্দাম

■ বাগেরহাট প্রতিনিধি ■

বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামিনের পর কারামুক্ত হয়েছেন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

সাদ্দামের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, কারামুক্ত হওয়ার পর যশোর থেকে সাদ্দাম বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বাগেরহাট শহরের নিজ বাড়িতে পৌঁছে প্রথমেই স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করতে যান। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এ ছাড়া চিকিৎসার জন্য আমি দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় আমার নামে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি যদি কোনো অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতাম, তাহলে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসতাম না, এটাই তার প্রমাণ। বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল মামুন আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন, না দিতে পারায় আমাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।

বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল মামুন বলেন, এই ধরনের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বাগেরহাট কারাগারে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকে বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তাদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের মরদেহ বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।

পরদিন বিকেলে তাদের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সাদ্দাম শেষবারের মতো কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়।

অন্যদিকে স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন করা হয়নি। সাদ্দামের পারিবারের মৌখিক অভিপ্রায় অনুযায়ী যশোর জেলগেটে তাকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যশোর জেলা প্রশাসক বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে মর্মে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন সাদ্দাম।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *