ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

জুলাইয়ের চিঠিতে পুতুল তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *