✍︎ কক্সবাজার প্রতিনিধি ✍︎
আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ সময়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন।
পর্যটকদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালার ২৬ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।
রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘নভেম্বরের শুরু থেকে কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি পরিপত্র পেয়েছি। আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপবাসী খুব খুশি। এবার পাঁচ মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত থাকবে। এতে দ্বীপবাসীর কষ্ট অনেকটা দূর হবে। কারণ, এখানকার মানুষের জীবিকা মূলত পর্যটননির্ভর। গত দুই বছর পর্যটন ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এবার সরকার বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করায় দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজে সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন পর্যটকেরা। তবে প্রতিদিন দ্বীপে যাতায়াতকারী পর্যটকের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি হতে পারবে না।
এ ছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্ট মার্টিনে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি না দিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর সেন্ট মার্টিন নিয়ে জারি করা ১২টি নির্দেশনা বহাল থাকবে।
