সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ ওয়্যারহাউস সিলগালা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

অনুমোদিত সীমার বাইরে গোপন গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্ত দল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১)-এর এক যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে ডিপ্লোমেটিক ওয়্যারহাউসটির কার্যক্রমে গুরুতর অসংগতি শনাক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির নথিভুক্ত ও ঘোষিত অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। তবে সরেজমিন অভিযানে দেখা যায়, তারা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুত করে রেখেছিল। বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা বা খোলাবাজারে বিক্রির আশঙ্কা রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুটি বৈধসহ চারটি ওয়্যারহাউসই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টস বন্ড মূলত বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল এনবিআর। এর পাশাপাশি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেখানে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব এবং অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা দেশের কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছিল। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও মিলেছে।

এই অভিযান সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের মতে, নুর ইসলামের ব্যবসা ও কর ফাঁকির বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে থেকেই অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার পর সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজিকে দায়ী করা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করার পর থেকে পরিবারের ওপর নজরদারি ও সার্বিক প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা বেড়েছে।

উল্লেখ্য, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দায়ের করা জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর পরদিনই তার শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের অবৈধ ওয়্যারহাউসে যৌথ বাহিনীর এই বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হলো।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *