✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী চাইলে নিয়মিত আপিল করতে পারবেন।
আদালতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নুরুল আমীন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। সেই আপিলের শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর।
এরপর হাইকোর্ট এক আদেশে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেন এবং তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করলেও সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেন। তবে একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, ঋণের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এতদিন তাঁর গেজেট ও শপথ আটকে ছিল। অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ হাইকোর্ট রায় দেওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা ও ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ বৈধতা পায়।
সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে লড়েন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারি। আদালত থেকে রায়ের কপি পাওয়ার পরপরই সংসদ সচিবালয় আজ সন্ধ্যায় তাঁর শপথের আয়োজন করে।
ওই আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই দুই দিন শুনানি শেষে বুধবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
সবশেষে বুধবার (২৯ জুলাই) আপিল বিভাগ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
