বিএনপির আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ঋণ খেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ হবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

সীতাকুণ্ড মহাসড়কে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের বিক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার খবর শুনে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁর সমর্থকেরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর সীতাকুণ্ডে মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবরোধ করেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থকেরা। এ সময় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, আবার কোথাও সড়কে দাঁড়িয়ে নেতা–কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। বেলা তিনটা পর্যন্ত রয়েল সিমেন্ট গেট, ছোট দারোগারহাটসহ নানা স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক থেকে নেতা–কর্মীদের সরিয়ে দেয়।

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে চট্টগ্রাম–৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেছিলেন। আপিল মঞ্জুর করে আজ সকালে রায় দেন আপিল বিভাগ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। রায়ে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণার পর দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে একাধিক স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁরা ‘আসলাম ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘দুর্দিনের আসলাম ভাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ নানা স্লোগান দেন।

কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা এই রায় মানি না। কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপি যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা আসলাম চৌধুরীর ডাকে আগেও সাড়া দিয়ে আন্দোলন–সংগ্রাম করেছেন। হাজার হাজার কর্মীর প্রাণপ্রিয় নেতা আসলাম চৌধুরীকে আমরা সংসদে দেখতে চাই।’

মো. আলমগীর বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ। ৯ বছর জেল খেটেছেন। তাঁর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাঁর যা কিছু ছিল, অবৈধ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। এক কালো ষড়যন্ত্রে আজ সকালে শুনতে পাই, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। জনতার রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। জনতার রায় কার্যকর না হলে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। প্রিয় নেতার জন্য লাখো মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। তখন জনমানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। আমরা চাই না সেটি ঘটুক। আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে, এ আশা রাখছি।’

আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. মোরসালিন বলেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল রিভিউ করবেন। যতই ষড়যন্ত্র করুক, আসলাম চৌধুরীর বিজয় হবেই।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *