✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে পবিত্র ঈদুল আজহায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।
আইনজীবী জানান, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে ১১৯ ধারায়। ওই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে রিট করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন। পরে ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন।
সেই বিচারাধীন রুলে সম্পূরক আবেদনে এ আদেশ দেন বলে জানিয়ে আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন জানান, আইনে আছে আলাদা কামরার কথা, সেটি বাস্তবায়নের রুল বিচারাধীন। এই অবস্থায় ঈদে নারীদের কষ্ট লাঘবে আবেদন করা হয়। পরে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু বুধবার
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের জন্য আগামীকাল ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রেলওয়ে থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পাওয়া যাবে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের অগ্রিম টিকিট। অন্যদিকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে। বরাবরের মতো এবারও ঈদযাত্রার সব টিকিট শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক করে বলেছে, টিকিট শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট ও ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ফেসবুক পেজ থেকে টিকিট কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত মাধ্যমের বাইরে টিকিট কেনার চেষ্টা করলে যাত্রীরা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা ও কালোবাজারি রোধে এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের এই ব্যবস্থার ফলে যাত্রীরা ঘরে বসেই সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
যেভাবে কাটবেন টিকিট
রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ঢুকেই যাত্রীরা ঘরে বসে টিকিট কিনতে পারবেন। এ জন্য আগে একবার নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আগে থেকে নিবন্ধন করা থাকলে সরাসরি লগইন করেই টিকিট কাটা যাবে।
রেজিস্ট্রেশন করতে হলে https://eticket.railway.gov.bd/ ঠিকানায় প্রবেশ করে ওপরের ডান পাশে থাকা ‘রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে ‘ভেরিফাই’ বাটনে চাপ দিলে মোবাইলে একটি ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে লগইন হয়ে যাবে।
টিকিট কিনতে লগইন করার পর ভ্রমণের তারিখ, যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্য ও শ্রেণি নির্বাচন করে ‘ফাইন্ড টিকিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তখন নির্ধারিত তারিখের ট্রেনের তালিকা, আসন খালি আছে কি না এবং ছাড়ার সময় দেখা যাবে।
পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করে ‘ভিউ সিটস’–এ ক্লিক করলে খালি আসন দেখাবে। সেখান থেকে আসন বেছে নিয়ে ‘কন্টিনিউ পারচেজ’ অপশনে যেতে হবে। এরপর আবার একটি ওটিপি মোবাইলে পাঠানো হবে, সেটি দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।
সবশেষে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত ইমেইল ঠিকানায় টিকিটের কপি পাঠানো হবে।
ডাউনলোড করা পিডিএফ টিকিট মোবাইলে দেখিয়েই ভ্রমণ করা যাবে। চাইলে ইমেইল থেকে প্রিন্ট কপি নিয়ে ফটো আইডিসহ সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকেও ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
