✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি ✍︎
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজের একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জিসানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় জিসান প্রধান আসামি। তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অভিযুক্ত জিসান প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ মে জিসান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করেন। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার গর্ভপাত করানো হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করার টালবাহানা থেকে বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে যান। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে তিনি তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান।
পুলিশ আরও জানায়, জিসানের উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামি চারজন।
এদিকে, শিবির নেতা ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, জিসানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
