✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি ✍︎
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় শিহাবের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত্যুর দুই দিন পর প্রকাশিত ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তবে এমন সাফল্যের দিনে ঘরে নেই সে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার।
শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানুরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। ঢাকার বিমানবন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দুই ছোট বোনের বড় ভাই শিহাব ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে। চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে সে। শনিবার দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরির কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’
সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিহাবের গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। সন্তানের এমন সাফল্যে স্বজনদের আনন্দে মেতে ওঠার কথা থাকলেও একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে স্তব্ধ পরিবারটি।
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।’
তিনি জানান, শিহাবের মৃত্যুতে মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে।
