পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া সুরমা নদী ছাতক ও কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও নতুন করে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ভারতের আসামে টানা ভারি বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, এর প্রভাবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে উজানে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি এবার বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার সব নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ে এখনই উদ্বেগের কারণ দেখছেন না তিনি। তার ভাষ্য, পানি কয়েক দিনের মধ্যে আবার নেমে যাবে।

এছাড়া রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামও বলেন, ভারতের উজানে বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি রংপুর ও কুড়িগ্রামে বাড়বে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বাড়লেও অধিকাংশ স্থানে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। তবে জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি এবং রংপুর বিভাগে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *