✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, যাদের কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে আগ্রহ রয়েছে, তাদের নিজ এলাকার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কারও হয়তো খুব ভালো ব্যবসায়িক ধারণা আছে, তাকে ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হতে পারে।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করা যায় কি না—তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে হয়তো কোনো একটি কারণে পড়াশোনায় ভালো ফল করতে পারেনি। তারা সামনের দিনগুলোতে আবার পরীক্ষা দেবে। ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষক ও অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছি—এক বছর অপেক্ষা না করে তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করা যায় কি না, বিশেষ করে যে বিষয়ে কেউ অকৃতকার্য হয়েছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ উপদেষ্টা বলেন, যারা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি, জীবনে চলার পথে এই ধরনের সাময়িক হোঁচট খাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এসএসসি কিংবা এইচএসসিতে যারা ভালো ফলাফল করে, তাদের হয়তো জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে সফলতার পূর্ণাঙ্গ নিশ্চয়তা নয়, তেমনি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না পেয়েও অনেকে জীবনে সফল হয়ে ওঠেন। এর অর্থ হলো এসএসসিতে সাফল্য মানেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়, আর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনের ব্যর্থতা নয়।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আগামী দিনে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকদেরও কঠোর মূল্যায়নের আওতায় নিয়ে আসবে সরকার। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি ও তা উত্তরণের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। শিক্ষকেরা যদি যথাযথভাবে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের সুযোগ বাড়বে। শুধু শিক্ষার্থীর ফলাফল নয়, শিক্ষাদানের কার্যকারিতা ও শেখার পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষার চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই শিক্ষাক্রমও নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হতে হবে গবেষণা, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে।
গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন’ শীর্ষক এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চলতি এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হলেও অকৃতকার্য হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। সাধারণ নিয়মে পাবলিক পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের জন্য পুরো একটি বছর অপেক্ষা করতে হয়। তবে এই দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মনোবল ধরে রাখতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান এক বছর নষ্ট হওয়া রোধ করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে—সম্ভবত ফলাফলের তিন মাসের মধ্যেই বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা নিজেদের ব্যর্থতার পেছনের গল্প এবং নানা প্রতিকূলতার কথা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকত্ব ও দায়িত্ব সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার সঙ্গে রাষ্ট্র নেবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
গণ-সাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, ডা. আরিফুর রহমান প্রমুখ।
