অধ্যক্ষ মেহেরুন নেছাকেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স’র অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের হামলার বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, প্রতিষ্ঠানটির সামনের সড়কের দু’পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—

১. মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্মেলনে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দাবি পূরণে প্রশাসন থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। 

প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে গতকাল (৫ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশি অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে।  এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিল হোসেন বলপ্রয়োগের অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, পূজার ছুটির আগে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের একটি বিদায় অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় (ভোর ৫টা পর্যন্ত) অডিটরিয়াম ব্যবহারের জেরে দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁদের কাছে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *