করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল, বাড়ছে আয়করের বোঝা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎ 

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এ করমুক্ত আয়সীমা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বাজেটে নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে।

নতুন বাজেটে করহারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমার পর প্রথম এক লাখ টাকার ওপর প্রচলিত ৫ শতাংশ করহার তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন করমুক্ত সীমার পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।

এদিকে করদাতাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে দ্রুত রিটার্ন দাখিলে করছাড়ের প্রণোদনা রাখা হয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছিল। এরপর আর করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি; কিন্তু গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। এতে যেসব করদাতা করমুক্ত সীমার একটু ওপরে ছিলেন, তাঁদের কর দিতে হচ্ছে। আবার উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁদের জীবনযাত্রার খরচও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের হিসাবে, সর্বশেষ গত মে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চলতি অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিল। আগামী অর্থবছরে সেই সীমা আরও ২৫ হাজার টাকা বেড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হচ্ছে; এছাড়াও ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে করমুক্ত আয়সীমা পেরোলে প্রথম ধাপ থেকেই আয়কর দিতে হবে আগের চেয়ে বেশি।

চলতি অর্থবছর পর্যন্ত আয়করমুক্ত সীমার পর প্রথম ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হতো। এরপরের ৪ লাখ, ৫ লাখ, ৫ লাখ ও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত যথাক্রমে ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ কর ধার্য রয়েছে। এর পরবর্তী মোট আয়ের ওপর দিতে হবে ৩০ শতাংশ।

তবে আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমার পর প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর কর প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ শতাংশ। পরবর্তী ৪ লাখ, ৫ লাখ ও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত যথাক্রমে ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর অবশিষ্ট আয়ের ওপর করের হার ৩০ শতাংশ।

২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য সাধারণ করদাতাদের প্রথম ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না। এরপরের প্রথম ৩ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। ২০২৮-২৯ থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত তিন অর্থবছরে এই হারে কিছুটা পরিবর্তন হবে। বার্ষিক ৩ কোটি টাকার বেশি আয়কারীদের আয়কর দিতে হবে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *