তনু হত্যা মামলায় আরও দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত ও পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে আরও তিনজনের ডিএনএর নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; যার মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন।  

নতুন করে যেই দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য, অন্যজনের পেশার বিস্তারিত জানা যায়নি।

১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট–১ আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নতুন করে যে দুজনের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত ও তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত তাঁরা হলেন-সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সোলেইমানের ছেলে সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর-রাজাপাড়া এলাকার এম এ মান্নানের ছেলে ফয়সাল আহমেদ রাব্বী। এঁদের মধ্যে জাহিদুলের বিরুদ্ধে ঘটনার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে তনুর পরিবার। তনু হত্যার সময় জাহিদুল কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন এই দুই ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালে ভিকটিমের জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনায় একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এসব ডিএনএ প্রোফাইল যাচাইয়ের জন্য মামলার সন্দেহভাজন সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বীর (৩২) ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত এবং তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য তাঁদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তবে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আপাতত এর বাইরে কিছু বলতে চাইছি না। তদন্ত শেষে আমরাই বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানাব।’

এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। পরদিন ২২ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা আদালতে হাজির করার আগে ওই দিন সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

ওই তিনজনের অপর দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। গত ৮ জুন সাবেক এই দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন কুমিল্লার আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *