প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন হৃদয়

✍︎ ক্রীড়া প্রতিবেদক ✍︎ 

তাওহীদ হৃদয় ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। ৩০৪ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করেন তিনি। এতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন হৃদয়।

মুশফিকুর রহিম (তিনটি), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

১০১ ওভারে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ৩৪০। ৩১৪ বলে আট ছয় ও ১৯ চারে ২০৮ রানে ব‍্যাট করছেন হৃদয়। ৯ বলে ২ রানে খেলছেন তাসকিন। তাদের জুটিতে লিডের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

১৮৪ রানে ৭ম উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তখনও ১৭২ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ফলে বড় লিডের পথে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তা হতে দেননি তাওহিদ হৃদয় ও তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজনের ১১৭ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৩০ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। 

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১১১.৫ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৪২ রান করেছেন হৃদয়। ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যাথা পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি সাদমান ইসলাম। তাই ৯ উইকেট হারিয়েই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৫৬ রান।

শনিবার ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকের অহেতুক এক শটে তা ভেস্তে গেছে। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলেন মুশফিক। ফিরলেন ৩৪ রানে। ফলে হৃদয়ের সঙ্গে তার জুটি থামে ৭৩ রানে।

নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে নেমেই লিটন দাস আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। দুটি বাউন্ডারি পেলেও তার আক্রমণাত্মক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে ফাঁদ তৈরি করেছেন ওয়ারিকান। ফুল লেংথে এবং অফ স্টাম্প বরাবর আসা বলে লিটন ড্রাইভ করতে গিয়ে মুশফিকের মতোই কাভারে দাঁড়ানো ব্রেন্ডন কিংকে ক্যাচ দিয়েছেন। ক্যারিবীয় তারকা সেটি তালুবন্দী করলেন একদম আয়েশি ভঙ্গিতে। হৃদয়-মেহেদি মিরাজের জুটিও আশা দেখিয়ে ভেঙেছে ৪১ রানে।

বেশ সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা মিরাজ রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলার মনস্থির করেছিলেন আগে থেকেই। ফলে ঠিকঠাক ব্যাটে না হওয়ায় ক্যাচ উঠে যায়, প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে গিয়ে জাস্টিন গ্রিভস ঝাঁপিয়ে সেটি লুফে নেন। ১৬ রানে থামলেন মিরাজ। ৬ রানের ব্যবধানে আউট হয়েছেন হাসান মাহমুদও। ওয়ারিকানের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল তার ব্যাটের আলতো স্পর্শ নিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ফলে ১৮৪ রানে বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায়, তখনও ক্যারিবীয়রা ১৭২ রানে এগিয়ে। ফলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের ফেরার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। তবে হাল ছাড়েননি হৃদয়। 

তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। যেখানে বড় অবদান হৃদয়ের। তবে তাইজুলও এক প্রান্তে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। ৫৬ বলে ২২ রান করে তিনি ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির দেখা। ৩০৪ বলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এটিই তার প্রথম তিন অঙ্কের ইনিংস, অর্থাৎ নিজের অভিষেক সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন হৃদয়।

নবম উইকেট জুটিতে আরো ৮৫ রান যোগ করেন তাসকিন-হৃদয়। ২৯ বলে ১২ রান করে তাসকিন ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। সাদমান ব্যাটিং না করায় নবম উইকেট পতনের পরই শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস। হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ছিলেন ৩৫৯ বলে ২৪২ রান করে। 

দেড়শ রান পূর্ণ করার পর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন হৃদয়। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। পরের ওভারে বিশপের বলে ছক্কা মেরেছেন হৃদয়। সেই ছক্কায় তামিমকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮ ছক্কার মালিক এখন হৃদয়। তামিম ৭ ছক্কা মেরেছিলেন ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *