✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত শেষ দিনে কোনো প্রার্থীই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২০ জন নির্বাচনি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সচিব।
ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে ইসি সচিব জানান, নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচনি কর্মকর্তা উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে কার্যক্রম শুরু করবেন। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট পেপারের বিশেষ নকশা অনুমোদন করা হয়েছে, যার রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।
তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ হবে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ওইদিন নিয়ে যাব। ব্যালট পেপার হবে সাদা ওপর কালো প্রিন্ট।
ইসি সচিব বলেন, ভেটগ্রহণ শেষে তখনই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আমরা দেখবেন আমরা কত তাড়াতাড়ি ফলাফল প্রকাশ করতে পারি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য (আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসন এখনও শূন্য রয়েছে)।
আখতার আহমেদ বলেন, বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। একক প্রার্থী না থাকায় ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ করা হবে।
ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর বৈধ ও অবৈধ ভোট গণনা শেষে জাতীয় সংসদ কক্ষেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনি কর্মকর্তা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এই ভোটগ্রহণ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হচ্ছে তথ্য দিয়ে ইসি সচিব বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদে এবার ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন।
এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।”
১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী ও মকবুল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
৮ অক্টোবর ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল।
১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সড়ে দাঁড়ান মকবুল হোসেন। পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুইজন প্রার্থী থাকায় ভোট হয়।
