✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু হয়েছে। মধ্যরাত নাগাদ এই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শনিবার দুপুরের দিকে এলএনজিবাহী একটি কার্গো মহেশখালী সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকেল ৪টা নাগাদ এলএনজি থেকে সরবরাহ ঘণ্টায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে; দুপুর ১২টার দিকে সরবরাহ ছিল ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেলে এলএনজিসহ গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে দৈনিক ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও নিয়মিত ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তবে গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লেগে গেলে সরবরাহ কমতে থাকে। গত এক মাসে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুইটি টার্মিনালে বারবার বিপত্তি দেখা দিলে দেশে একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গিয়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩৭৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখতে হয়েছিল।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, বেলা ২টার দিকে এক্সিলারেটের এফএসআরইউর কাছে একটি এলএনজি কার্গো এসে পোঁছায়। ৭ ঘণ্টা পর আনলোড শুরু হবে।
দুপুর দেড়টা থেকেই এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল দিয়ে ১শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। টার্মিনালে আগে জমা থাকা কিছু এলএনজি দিয়ে সরবরাহ শুরু হয়।
এতে দুপুর থেকেই গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারণ পাশে থাকা দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল দিয়েই ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি টার্মিনাল দিয়ে ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতে রবিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শনিবার রাতে সরবরাহ বেড়ে ৮শ থেকে ৯শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস হবে।’
এলএনজি সরবরাহে বিপত্তি ঘটে ২১ এপ্রিল থেকেই। প্রথমে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে আগুন লেগেই তৈরি হয় বিপত্তি। দুসপ্তাহ সচলের পর টার্মিনালটি পড়ে এলএনজি সংকটে। এরই মধ্যে দেশীয় সামিটের টার্মিনালও বন্ধ থাকে এলএনজি সংকটে।
এদিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে আছে সারা দেশের শিল্প কারখানা। নতুন করে গ্যাস আসার খবরে ফের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করছেন শিল্প মালিকেরা। তবে যেসব এলাকায় গ্যাস নেই সেখানে গ্যাস পৌঁছাতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিতরণ সংস্থা তিতাস।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ নেওয়াজ পারভেজ বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল ও কুমিল্লা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ তিতাসের বিতরণ এলাকায় গ্যাস পৌঁছাবে। সে ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যাবে। আবার এদিকে দীর্ঘদিন গ্যাস না থাকার কারণে পাইপলাইনগুলোতে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সময় লাগবে।
তিতাসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাসের বাড়তি বরাদ্দ দিয়েছিল তিতাস। সেই বরাদ্দ ঠিক রেখে লাইনে পাওয়া বাড়তি গ্যাস থেকে রপ্তানিমুখী কলকারখানায় বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আজও লোডশেডিং হচ্ছে। এলাকাভেদে দিনে দুই থেকে তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়বে। এতে লোডশেডিং কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
