✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর আরও দুজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রথমে দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। পৃথক আরেকটি হামলায় অন্য দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিহত দুজন হলেন- শুভ কুমার দাশ ও করিম মিয়া।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন সাতক্ষীরা জেলার শফিকুল ইসলাম (৪০) ও মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম (২০)। সোমবার দুপুরে লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জেবদিন এলাকায় তাঁদের বাসস্থানে ড্রোন হামলা চালানো হলে তাঁরা নিহত হন।
সোমবার রাতেই নাবাতিয়েহর আরেকটি আবাসিক এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলা হয়, যেখানে বাংলাদেশি অভিবাসীরা বসবাস করতেন। এই হামলার পর আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, ড্রোন হামলায় নিখোঁজ দুজনের থাকার জায়গাটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনো মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে এই ঘটনাকে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘জঘন্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস বর্তমানে লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরায় থাকা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে তারা যখন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ের যেব্দীন এলাকায় তাদের বাসায় ছিলেন, তখন সেখানে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়।
“প্রবাসী উপরোক্ত দুজন রেমিট্যান্সযোদ্ধার মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাস, বৈরুত গভীর শোক জানাচ্ছে। একই সাথে দুজন মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। বর্তমানে তাদের মরদেহ নাবাতিয়ের নাবিহ বেররি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।”
এদিকে বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিভাগের প্রথম সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, সোমবার রাতে নাবাতিয়ের এলাকায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি থাকে এমন এলাকায় ড্রোন হামলা হয়।
“ড্রোন হামলায় তাদের আবাসস্থল তছনছ হয়ে গেছে। মরদেহ না পাওয়ায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারছি না।”
লেবাননে দুজন নিহতের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘জঘন্য হামলায়’ দুই বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ‘সর্বোচ্চ কড়া ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভুক্তভোগীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছে বাংলাদেশ সরকার। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ রাখছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ আবারও গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবিচল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
