✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
জাপানে শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত ও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ চারজনই কানাগাওয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছিল, টাইফুনটি মানুষের জীবনের জন্য ‘তাৎক্ষণিক বড় হুমকি’ তৈরি করতে পারে।পরে কয়েকটি এলাকার সতর্কতার মাত্রা কমানো হলেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় রেল চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
দুজুয়ানের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। ঝোড়ো বাতাসের গতি উঠেছে ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত।
ভূমিধসেও প্রাণহানি হয়েছে। ইয়োকোসুকা শহরে ষাটের কোঠার এক নারী এবং চিবা প্রদেশের সোদেগাউরা শহরে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
টাইফুনের কারণে রক ইন জাপান সংগীত উৎসব ও টোকিও গেম শোর কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
দুজুয়ান এ বছর জাপানে আঘাত হানা ২৫তম টাইফুন। বর্তমানে এটি দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টাইফুনের প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর বিলম্বিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টোকিওর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বাসিন্দাদের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভের তলায় না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টির তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি কার্টুনের মাধ্যমে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘বেসমেন্টে পানি দ্রুত ঢুকে পড়তে পারে এবং বাইরে কী ঘটছে তা দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে সেখানে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের ‘অত্যন্ত সতর্ক’ থাকতে হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাটি ম্যানহোলের ঢাকনার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে। বন্যার পানিতে এগুলো সরে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
