𓂃✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক 𓂃✍︎
পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক অবরোধ শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।
এর আগে মার্কিন সেনারা বলেছিল, বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে এ অবরোধ কার্যকর হবে। তারা জানায়, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাবে বা আসবে তার সব জাহাজকে আটকানো হবে।
কিন্তু উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের বন্দরে গেলে অবরুদ্ধের আওতায় পড়তে হবে না।
মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগরে অবস্থানরত সকল দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।”
“অনুমতি ছাড়া অবরোধকৃত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হলে সেটিকে পথিমধ্যে আটক করা, গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা অথবা জব্দ করা হতে পারে। তবে এ অবরোধ ইরান বন্দর বাদে অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযান সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টির বেশি যুদ্ধজাহাজ সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির সহযোগী সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর পাশাপাশি পারস্য উপসাগর, ওমান সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং আরব সাগরের কিছু অংশে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, সেভাবে ইরানের জাহাজগুলোর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সমুদ্রে নৌকায় থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, সেই পদ্ধতিতে তাদের (ইরানি জাহাজ) নিশানা করা হবে।’ এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তাদের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়লে পারস্য উপসাগর বা ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে সামরিক জাহাজ অগ্রসর হলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেবে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রনালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশটি জানায়, ইরানের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে আর চলতে পারবে না।
বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উপসাগরীয় যত দেশ আছে তারা তাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাস হরমুজ দিয়ে রপ্তানি করে থাকে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সোমবার লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট আধুনিক ইতিহাসে জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানকে অর্থ প্রদানকারী জাহাজগুলোকেও চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
তবে ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, তারা এই অবরোধে অংশ নেবে না। বরং তারা হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। কারণ বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক।
