ইরানের ৩ ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করল মার্কিন বাহিনী

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর একদিন পরই মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার আশপাশের গভীর সমুদ্র থেকে ইরানের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। জাহাজ ৩টির হল- ডিপ সি, সেভিন এবং ডোরেনা।

বুধবার নৌপরিবহন ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এশীয় জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার আটকে দিয়েছে এবং ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি অবস্থান থেকে সেগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

ওয়াশিংটন সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে সেগুলোর ওপর গুলি চালিয়েছে।

মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ডিপ সি ইরানের সুপারট্যাংকার জাহাজ। জব্দ করার সময় জাহাজটি আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুসারে ডিপ সি-কে সর্বশেষ গত সপ্তাহে  মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

দ্বিতীয় ট্যাংকার জাহাজ সেভিন জব্দের সময় সেটিতে থাকা তেলের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ব্যারেল। এটি সেভিনের মোট ধারণক্ষমতার ৬৫ শতাংশ। জাহাজটিকে সর্বশেষ এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গেছে।

জব্দকৃত তৃতীয় ইরানি ট্যাংকার জাহাজ দোরেনা অবশ্য সম্পূর্ণ লোডেড ছিল। জব্দের পর জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে। দোরেনাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তিন দিন আগে ভারত মহাসাগরের ভারতীয় উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলো থেকে ছেড়ে যাওয়া ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে ফের বন্দরে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বন্দরে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। তিনি এই অভিযানকে অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, বন্দর নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ আটক করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই অবরোধের কারণে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

অন্যদিকে জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা ভরটেক্সা বলছে, এখনো অন্তত ৩৪টি তেলবাহী জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে চলাচল করছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ উপসাগর ছাড়ছে, আবার কিছু আরব সাগর হয়ে ইরানের দিকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকটি জাহাজ তাদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে গন্তব্য গোপন রাখার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে ‘ডোরেনা’ নামের একটি বড় ট্যাংকারের কথা বলা হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার উপকূলে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে তেল স্থানান্তর করছিল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *