✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত ৯ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা আসে। এই চুক্তিতে শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা অপসারণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেই সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন। কয়েক মাস না যেতেই তাঁর প্রশাসন বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপ করে। এরপর ট্রাম্প সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করার আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
নতুন এই চুক্তি ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘ইউএস-বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা)’ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি (২০২৪ সালে যা ছিল ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) হ্রাস করা এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো দূর করা।
চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো শুল্কায়ন প্রক্রিয়া। চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার সরাসরি শূন্য শতাংশ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যে নির্ধারিত শুল্ক আরোপ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক প্রয়োগ করবে। কিছু পণ্যে চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুল্ক শূন্য, কিছু পণ্যে ৫ বছরে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার, আবার কিছু ক্ষেত্রে ১০ বছরে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে বাংলাদেশ কোনো কোটা আরোপ করবে না।
বিশেষ করে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের জন্য একটি বিশেষ মেকানিজম বা পদ্ধতি চালু করার কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই আমদানির পরিমাণ নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করা টেক্সটাইল কাঁচামাল (যেমন তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু) ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।
বিনিময়ে বাংলাদেশও মার্কিন শিল্প ও কৃষি পণ্যের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা ও অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, বাদাম এবং ফলমূল।
বাণিজ্য সহজতর করতে বাংলাদেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অশুল্ক বাধা অপসারণে রাজি হয়েছে। এগুলো হলো মোটরযান, ওষুধপণ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃ উৎপাদিত পণ্য বা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন মানসম্পন্ন পণ্য অতিরিক্ত পরীক্ষা ছাড়াই বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক বাধা অপসারণ করা হবে, আমদানি লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন হবে বলে নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ বাজার সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে চুক্তিতে।
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার এবং ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর স্থায়ীভাবে কাস্টমস শুল্ক না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে। চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানির ওপর বৈষম্যমূলক ডিজিটাল কর আরোপ করা যাবে না।
চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে হবে, তৃতীয় দেশের কম দামে পণ্য রপ্তানি প্রতিরোধ এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশকে কিছু নির্দিষ্ট দেশের কাছ থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম কেনা থেকেও বিরত থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে চুক্তিতে।
বাংলাদেশকে শক্তিশালী মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি অনলাইন পাইরেসি দমন, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সীমান্ত পর্যায়ে জাল পণ্য প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।
চুক্তির পাশাপাশি বেশ কিছু বড় বাণিজ্যিক লেনদেনের ঘোষণাও এসেছে। সে অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী ’বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস’ মার্কিন বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এলএনজিসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বার্ষিক ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গম, সয়াবিন এবং তুলা কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চিজ ও মাংসজাত পণ্যের নাম ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ কোনো ধরনের বাজার বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। চেডার, মোজারেলা, গৌডা, সালামি, ব্রাটওয়ার্স্টসহ বহু আন্তর্জাতিক পণ্য বাংলাদেশে সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার রক্ষায় কঠোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রম জোরপূর্বক শ্রম ও শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা হবে, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সহজ করতে আইন সংশোধন করা হবে, ইপিজেড এলাকায় শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকার সম্প্রসারিত করা হবে। এ ছাড়া ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার ব্যবস্থার শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চুক্তিতে। মেধাসম্পদ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০২৩ সালের শ্রম আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চুক্তিতে।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে পরিবেশ রক্ষায় নিজস্ব আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধভাবে বন উজাড় ও বন্য প্রাণী পাচার রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেবা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না, তেল-গ্যাস, বিমা ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করা হবে এবং বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, শর্ত লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় শুল্ক আরোপ করতে পারবে এবং চুক্তি বাতিল করতে চাইলে ৬০ দিনের নোটিশ দিতে হবে।
প্রথম ভাগ: শুল্ক এবং কোটা
অনুচ্ছেদ ১.১: শুল্ক এবং কোটা
১. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্যের ওপর শুল্ক হার প্রয়োগ করবে, যা পরিশিষ্ট-১-এর প্রথম ভাগে নির্ধারিত আছে।
২. পক্ষসমূহ অন্যভাবে সম্মত না হলে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর কোটা আরোপ করবে না।
৩. যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক হার প্রয়োগ করবে, যা পরিশিষ্ট-১-এর দ্বিতীয় ভাগে নির্ধারিত আছে।
দ্বিতীয় ভাগ: অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
অনুচ্ছেদ ২.১: আমদানি লাইসেন্সিং
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর এমনভাবে আমদানি লাইসেন্সিং প্রয়োগ করবে না, যা এসব পণ্যের আমদানিকে সীমিত করে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে প্রচলিত যেকোনো অস্বয়ংক্রিয় আমদানি লাইসেন্সিং কেবল অন্তর্নিহিত ব্যবস্থাকে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োগ করা হবে, এবং তা স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন ও অযথা বোঝা সৃষ্টি করবে না এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দেবে না।
অনুচ্ছেদ ২.২: কারিগরি বিধিমালা, মান এবং সামঞ্জস্য মূল্যায়ন
১. যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্যসমূহকে, যা প্রযোজ্য যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক মান, যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি বিধিমালা, অথবা যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক মান মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, অতিরিক্ত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেবে। এ ক্ষেত্রে:
(ক) বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তার নিজস্ব সংস্থাগুলোর মতোই আচরণ করবে; এবং
(খ) বাংলাদেশ এমন পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা সহজতর করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে তৃতীয় পক্ষের মান মূল্যায়নের আওতাভুক্ত নয়।
- বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে কারিগরি বিধিমালা, মান ও সামঞ্জস্য মূল্যায়ন পদ্ধতিগুলো বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ওপর গোপন প্রতিবন্ধকতা হিসেবে, যদি থাকে কাজ করবে না এবং পারস্পরিকতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন ক্ষেত্রসমূহে বিদ্যমান কারিগরি বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করবে, যার মধ্যে পুনরাবৃত্তি বা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা সামঞ্জস্য মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও অন্তর্ভুক্ত।
অনুচ্ছেদ ২.৩: কৃষি
১. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের জন্য বৈষম্যহীন বা অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার দেবে, যা পরিশিষ্ট-১-এর প্রথম ভাগে নির্ধারিত আছে।
২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, তার স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক এবং তা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ওপর গোপন প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে না এবং পারস্পরিকতাকে ক্ষুণ্ন করে—এমন ক্ষেত্রে অযৌক্তিক এসপিএস প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করবে।
৩. বাংলাদেশ তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় যাবে না, যেখানে অবৈজ্ঞানিক, বৈষম্যমূলক বা অগ্রাধিকারমূলক কারিগরি মান অন্তর্ভুক্ত থাকে; তৃতীয় দেশে যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এসপিএস ব্যবস্থা থাকে; অথবা অন্য কোনোভাবে তৃতীয় দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকে অসুবিধার মধ্যে ফেলে।
অনুচ্ছেদ ২.৪: ভৌগোলিক নির্দেশক
বাংলাদেশ ভৌগোলিক নির্দেশকের সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে। এই প্রচেষ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক চুক্তিও থাকবে। এমন ক্ষেত্রে, যেখানে বাংলাদেশ কোনো পণ্যকে ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে সুরক্ষা বা স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু পণ্যের এমন কোনো নির্দিষ্ট গুণমান, সুনাম বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নেই, যা মূলত তার ভৌগোলিক উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেবে।
অনুচ্ছেদ ২.৫: পনির ও মাংস-সম্পর্কিত পরিভাষা
বাংলাদেশ পরিশিষ্ট-২-এ তালিকাভুক্ত পনির ও মাংস-সম্পর্কিত পরিভাষার কেবল পৃথক ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রবেশাধিকার সীমিত করবে না।
অনুচ্ছেদ ২.৬: মেধাস্বত্ব
বাংলাদেশ মেধাস্বত্বের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা মান নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ মেধাস্বত্ব অধিকারের দেওয়ানি, ফৌজদারিসহ কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, এই ব্যবস্থাগুলো মেধাস্বত্বের লঙ্ঘন বা অপব্যবহার প্রতিরোধ ও নিরুৎসাহিত করে, যার মধ্যে অনলাইন মাধ্যমও অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ফৌজদারি এবং সীমান্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেবে এবং পদক্ষেপ নেবে।
অনুচ্ছেদ ২.৭: সেবা
বাংলাদেশ এমন কোনো ব্যবস্থা নেবে না বা বজায় রাখবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেবা বা সেবা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের সব বাণিজ্য চুক্তিতে কোনো ব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক অ-অনুবর্তী ব্যবস্থা বা সীমাবদ্ধতার আওতাভুক্ত অথবা সেই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বাধ্য নয়, এমন ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না।
অনুচ্ছেদ ২.৮: উত্তম নিয়ন্ত্রক চর্চা
বাংলাদেশ পরিশিষ্ট-৩-এর অনুচ্ছেদ ১.১৭-এ বর্ণিত উত্তম নিয়ন্ত্রক চর্চা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যা নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার পুরো জীবনচক্রে অধিক স্বচ্ছতা, পূর্বানুমান যোগ্যতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
অনুচ্ছেদ ২.৯: শ্রম
১. বাংলাদেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে দণ্ডিত শ্রম বা জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রম—যার মধ্যে চুক্তিবদ্ধ শ্রম ও চুক্তিবদ্ধ শিশুশ্রম অন্তর্ভুক্ত—দ্বারা খনন, উৎপাদন বা প্রস্তুত করা পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা বাস্তবায়ন করবে।
২. বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকারসমূহ রক্ষা করবে। এর মধ্যে আইন ও প্রয়োগে এই অধিকারসমূহ গ্রহণ বা বজায় রাখা এবং কার্যকরভাবে শ্রম আইন প্রয়োগ করা, যার মধ্যে শ্রম অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি বা বজায় রাখা অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ এসব আইনের লঙ্ঘনের জন্য উপযুক্ত আইনি শাস্তি নির্ধারণ ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে। বাংলাদেশ তার শ্রম আইনে সুরক্ষার মান দুর্বল বা হ্রাস করবে না এবং বাণিজ্য বা বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য এ পর্যন্ত যেকোনো ধরনের দুর্বলতা বা হ্রাস করা হয়ে থাকলে তা সমাধান করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শ্রম অধিকার-সম্পর্কিত এমন বিষয়গুলো সমাধান করবে, যা অসম বাণিজ্যে ভূমিকা রাখে।
অনুচ্ছেদ ২.১০: পরিবেশ
বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা গ্রহণ ও বজায় রাখবে, তার পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী পরিবেশগত শাসনকাঠামো বজায় রাখবে বা প্রতিষ্ঠা করবে এবং পরিবেশ-সম্পর্কিত এমন বিষয়সমূহ সমাধান করবে, যা অসমপর্যায়ের বাণিজ্যে অবদান রাখে।
অনুচ্ছেদ ২.১১: সীমান্তব্যবস্থা এবং কর
১. যদি যুক্তরাষ্ট্র আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে সুবিধা অর্জনের চেষ্টা মোকাবিলার জন্য এমন কোনো সীমান্তব্যবস্থা নেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য অসুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তাহলে বাংলাদেশ বিষয়টি সমাধানের জন্য তার সীমান্তব্যবস্থাগুলোকে সমন্বয় ও সামঞ্জস্যমূলক করার চেষ্টা করবে।
২. করব্যবস্থার পার্থক্য অসম বাণিজ্যে অবদান রাখতে পারে—এটি স্বীকার করে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত এমন কোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপত্তি করবে না, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কর ফেরত দেওয়া বা আরোপ না করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়; এর মধ্যে পরিপূরক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) আপত্তি অন্তর্ভুক্ত।
৩. বাংলাদেশ আইনগতভাবে বা বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মূল্য সংযোজন কর আরোপ করবে না।
৪. বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এমন প্রযুক্তিগত সমাধান বাস্তবায়ন ও বজায় রাখবে, যা তার সীমান্ত অতিক্রমকারী যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য সম্পূর্ণ আগমনের পূর্বপ্রক্রিয়া, কাগজবিহীন বাণিজ্য ও ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে।
তৃতীয় ভাগ: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি
অনুচ্ছেদ ৩.১: ডিজিটাল সেবা কর
বাংলাদেশ আইনগতভাবে বা বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ডিজিটাল সেবা কর বা অনুরূপ কর আরোপ করবে না।
অনুচ্ছেদ ৩.২: ডিজিটাল বাণিজ্যের সুবিধাকরণ
১. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যকে সহজতর করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল পণ্যের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকা;
- ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশ্বস্তভাবে সীমান্তের ওপারে তথ্যের অবাধ স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং
- সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা।
২. যদি বাংলাদেশ এমন কোনো দেশের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তিতে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।
অনুচ্ছেদ ৩.৩: ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্ক
বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর, যার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে প্রেরিত বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত, কোনো শুল্ক আরোপ করবে না এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্কের স্থায়ী স্থগিতাদেশের বহুপক্ষীয় গ্রহণকে সমর্থন করবে।
অনুচ্ছেদ ৩.৪: বাজারে প্রবেশের শর্তাবলি
১. বাংলাদেশ কোনো শর্ত আরোপ করবে না বা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কার্যকর করবে না, যা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিদের অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সোর্স কোড বা অন্যান্য মালিকানাধীন জ্ঞান হস্তান্তর বা অ্যাকসেস প্রদান করতে বাধ্য করে অথবা তার ভূখণ্ডে ব্যবসা করার শর্ত হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয়, ব্যবহার বা অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
২. এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই:
(ক) সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না;
(খ) বাণিজ্যিকভাবে আলোচিত চুক্তিতে সোর্স কোড প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত শর্তাবলির অন্তর্ভুক্তি বা বাস্তবায়নকে বাধা দেবে না; অথবা
(গ) কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অন্য পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট তদন্ত, পরিদর্শন, পরীক্ষা, প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা বা বিচারিক কার্যধারার জন্য, অননুমোদিত প্রকাশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা সাপেক্ষে, সফটওয়্যারের সোর্স কোড বা সেই সোর্স কোডে প্রকাশিত কোনো অ্যালগরিদম সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা আরোপ থেকে বিরত রাখবে না।
চতুর্থ ভাগ: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা
অনুচ্ছেদ ৪.১: পরিপূরক ব্যবস্থা
১. যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সীমান্তব্যবস্থা বা অন্যান্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয় এবং মনে করে যে, এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সেই ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করবে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এবং পক্ষসমূহের মধ্যে পরামর্শের পর, বাংলাদেশ তার আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সমর্থনে একটি পরিপূরক সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে।
২. বাংলাদেশ এমন ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত তৃতীয় দেশের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মোকাবিলা করে, যার ফলে—(ক) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি; (খ) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি; (গ) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস; অথবা (ঘ) তৃতীয় দেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের কম এমন পণ্যের বিষয়ে তথ্য দেবে।
অনুচ্ছেদ ৪.২: রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
১. বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান বহুপক্ষীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে; এমন প্রযুক্তি ও পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, তার কোম্পানিগুলো এই নিয়ন্ত্রণসমূহকে প্রতিস্থাপন বা দুর্বল করবে না।
২. যুক্তরাষ্ট্রে বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত লেনদেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা সীমিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ আইনের প্রযোজ্য শর্তাবলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অনুমোদিত উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
৩. অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আগত বিনিয়োগ সম্পর্কে তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করবে।
৪. যদি যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করে যে, বাংলাদেশ যৌথ জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়গুলো মোকাবিলায় সহযোগিতা করছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পর্যালোচনা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত তার আইন ও বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতাকে বিবেচনায় নিতে পারে।
অনুচ্ছেদ ৪.৩: অন্যান্য ব্যবস্থা
১. যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সহজতর ও উন্নত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে।
২. বাংলাদেশ বাজার অর্থনীতির দেশগুলোর দ্বারা জাহাজ নির্মাণ ও নৌপরিবহনকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবস্থা নেবে। পক্ষসমূহ এ ধরনের ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ করবে।
৩. বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করবে।
৪. যদি বাংলাদেশ কোনো অ-বাজার অর্থনীতির দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তিতে প্রবেশ করে, যা এই চুক্তিকে ক্ষুণ্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।
৫. বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয় করবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তবে এমন মালিকানাধীন উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে, যার কোনো বিকল্প সরবরাহকারী বা প্রযুক্তি নেই অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
পঞ্চম ভাগ: বাণিজ্যিক বিবেচনা এবং সুযোগসমূহ
অনুচ্ছেদ ৫.১: বিনিয়োগ
১. বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকে অনুমতি ও সহায়তা দেবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসম্পদের অনুসন্ধান, খনন, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানি করা যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামো সেবা দেওয়া যায়, এমন শর্তে, যা অনুরূপ পরিস্থিতিতে তার নিজস্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত শর্তের চেয়ে কম অনুকূল নয় এবং এসব বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মান বজায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করবে।
২. যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে, যেমন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (এক্সিম ব্যাংক) ও মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সহযোগিতা (ডিএফসি), প্রযোজ্য হলে প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ অর্থায়ন সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগকে সম্ভবপর পরিমাণে সহজতর করবে।
অনুচ্ছেদ ৫.২: বাণিজ্যিক বিবেচনা
১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, তার রাষ্ট্রায়ত্ত বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসমূহ (এসওই) ও তার বাজারে পরিচালিত তৃতীয় দেশের এসওইসমূহ, যখন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তখন (ক) পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করে; (খ) যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বা সেবার বিরুদ্ধে বৈষম্য করা থেকে বিরত থাকে; এবং (গ) দেশীয় পণ্য উৎপাদকদের ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যতিক্রম হবে। বাংলাদেশ তার পণ্য উৎপাদনকারী এসওইসমূহকে অ-বাণিজ্যিক সহায়তা প্রদান বা অন্যভাবে ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকবে।
২. যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে, অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ছাড়া কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত সকল প্রকার অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবে এবং এসব ভর্তুকি ও সহায়তা ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবসমূহ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেবে।
অনুচ্ছেদ ৫.৩: বস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাক পণ্যসমূহকে শূন্য পারস্পরিক শুল্কহারের সুবিধা দিতে সক্ষম হবে। এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত হবে যে, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্র আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে এই হ্রাসকৃত শুল্কহারে প্রবেশ করতে পারবে, তবে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বস্ত্র রপ্তানির, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তুভিত্তিক বস্ত্র উপাদান ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।
অনুচ্ছেদ ৫.৪: ক্রয়
পরিশিষ্ট ৩-এর ষষ্ঠ ভাগে বর্ণিত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উৎপত্তিগত পণ্য ক্রয় করবে।
ষষ্ঠ ভাগ: বাস্তবায়ন, প্রয়োগ ও চূড়ান্ত বিধান
অনুচ্ছেদ ৬.১: সংযোজনী, পরিশিষ্ট ও পাদটীকা
এই চুক্তির সংযোজনী, পরিশিষ্ট ও পাদটীকাসমূহ এই চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
অনুচ্ছেদ ৬.২: সংশোধন ও পরিবর্তন
প্রতি পক্ষ এই চুক্তির যুক্তিসংগত সংশোধনের অনুরোধ করতে পারে, যা অন্য পক্ষ সদিচ্ছার সঙ্গে বিবেচনা করবে। পক্ষসমূহ লিখিতভাবে এই চুক্তি সংশোধনে সম্মত হতে পারে, যদি এমন সংশোধন এই চুক্তি বা পক্ষসমূহের মধ্যে অন্যান্য চুক্তির সুবিধাসমূহকে ক্ষুণ্ন না করে।
অনুচ্ছেদ ৬.৩: মূল নিয়মাবলি
পক্ষসমূহের উদ্দেশ্য হলো, এই চুক্তির সুবিধাসমূহ প্রধানত তাদের ও তাদের নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। যদি এই চুক্তির সুবিধাসমূহ উল্লেখযোগ্যভাবে তৃতীয় দেশ বা তৃতীয় দেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রবাহিত হয়, তাহলে একটি পক্ষ, সম্ভব হলে অন্য পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের পর, এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মূল নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
অনুচ্ছেদ ৬.৪: প্রয়োগ
১. এই চুক্তির কোনো কিছুই কোনো পক্ষকে তার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন প্রতিকার, আমদানি বৃদ্ধি মোকাবিলা, তার অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা অথবা অনুরূপ অন্যান্য কারণে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা থেকে সীমাবদ্ধ বা প্রতিরোধ করবে না।
২. যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বাংলাদেশ এই চুক্তির কোনো বিধান অনুসরণ করেনি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, সম্ভব হলে, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শ করবে। যদি এসব পরামর্শ সন্তোষজনক ফলাফল না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কিছু বা সব আমদানির ওপর ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।
অনুচ্ছেদ ৬.৫: চুক্তির সমাপ্তি
যেকোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে লিখিতভাবে সমাপ্তির নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি সমাপ্তি ঘটাতে পারে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার ৬০ দিন পর বা পক্ষসমূহের নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখে সমাপ্তি কার্যকর হবে।
অনুচ্ছেদ ৬.৬: কার্যকর হওয়া
পক্ষসমূহ তাদের প্রযোজ্য আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে লিখিত নোটিশ বিনিময় করার ৬০ দিন পর বা পক্ষসমূহের নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখে এই চুক্তি কার্যকর হবে।
পরিশিষ্ট ১
প্রথম ভাগ
বাংলাদেশের শুল্ক
সাধারণ নোটসমূহ
১. এই ভাগের বিধানসমূহ সাধারণভাবে শুল্ক আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিল, সংশোধিত (বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ)-এর পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে, এবং এই ভাগের বিধানসমূহের ব্যাখ্যা, যার মধ্যে এই ভাগের উপ-শিরোনামগুলোর পণ্য কাভারেজ অন্তর্ভুক্ত, বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের সাধারণ নোট, বিভিন্ন ভাগের নোট এবং অধ্যায়ের নোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। যতটুকু পর্যন্ত এই ভাগের বিধানসমূহ বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের সঙ্গে অভিন্ন, ততটুকু পর্যন্ত এই সূচির বিধানসমূহের অর্থ বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের মতোই হবে।
২. এই সূচিতে নির্ধারিত ভিত্তি শুল্ক হারসমূহ ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কার্যকর বাংলাদেশের সর্বাধিক অনুকূল দেশের (এমএফএন) ওপর শুল্ক হারের ভিত্তিতে হবে, যার মধ্যে সম্পূরক শুল্ক এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক অন্তর্ভুক্ত।
৩. বাংলাদেশ এই ভাগে প্রদত্ত শর্তানুসারে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত পণ্যের ওপর শুল্ক হার প্রয়োগ করবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, শুল্কের মধ্যে কাস্টমস ডিউটি (“সিডি”), সম্পূরক শুল্ক (“এসডি”) যা দ্য ভ্যালু অ্যাডেড অ্যান্ড সাপ্লিমেন্ট ডিউটি অ্যাক্ট ২০১২ (সংশোধিত)-এ সংজ্ঞায়িত, এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক (“আরডি”) যা শুল্ক আইন ২০২৩-এ সংজ্ঞায়িত, অন্তর্ভুক্ত।
৪. এই ভাগে, বাংলাদেশ কর্তৃক শুল্ক বিলোপ বা হ্রাসের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ধাপভিত্তিক শ্রেণিগুলো প্রযোজ্য হবে:
(ক) স্টেজিং ক্যাটাগরি ইআইএফ-এ অন্তর্ভুক্ত আইটেমসমূহে প্রদত্ত উৎপত্তিগত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করা হবে, এবং এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখে এসব পণ্য শুল্কমুক্ত হবে;
(খ) স্টেজিং ক্যাটাগরি বি৫-এ অন্তর্ভুক্ত আইটেমসমূহে প্রদত্ত উৎপত্তিগত পণ্যের ওপর শুল্ক এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সময় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হবে, এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ চারটি সমান বার্ষিক ধাপে বিলোপ করা হবে, এবং পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এসব পণ্য শুল্কমুক্ত হবে;
(গ) স্টেজিং ক্যাটাগরি বি১০-এ অন্তর্ভুক্ত আইটেমসমূহে প্রদত্ত উৎপত্তিগত পণ্যের ওপর শুল্ক এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সময় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হবে, এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ নয়টি সমান বার্ষিক ধাপে বিলোপ করা হবে, এবং দশম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এসব পণ্য শুল্কমুক্ত হবে;
(ঘ) স্টেজিং ক্যাটাগরি এ-এ অন্তর্ভুক্ত আইটেমসমূহে প্রদত্ত উৎপত্তিগত পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য থাকবে;
(ঙ) স্টেজিং ক্যাটাগরি এক্স-এ অন্তর্ভুক্ত আইটেমসমূহে প্রদত্ত উৎপত্তিগত পণ্যের ওপর শুল্ক বাংলাদেশের প্রযোজ্য এমএফএন শুল্ক হারের আওতায় থাকবে।
৫. এই ভাগের শুল্ক আইটেমগুলোর অন্তর্বর্তী ধাপভিত্তিক হারসমূহ নিকটতম দশমিকের এক-দশমাংশ শতাংশে, অথবা যদি শুল্ক হার আর্থিক এককে প্রকাশ করা হয়, তাহলে নিকটতম বাংলাদেশি এক টাকায় পূর্ণসংখ্যায় নির্ধারিত হবে।
৬. এই ভাগের উদ্দেশ্যে, “প্রথম বছর” বলতে বোঝায় যে বছর এই চুক্তি সেকশন ৭ অনুযায়ী কার্যকর হয় এবং সেই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
৭. এই ভাগের উদ্দেশ্যে, দ্বিতীয় বছর থেকে শুরু করে, শুল্ক হ্রাসের প্রতিটি বার্ষিক ধাপ সংশ্লিষ্ট বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক
সাধারণ নোটসমূহ
১. এই ভাগের বিধানসমূহ সাধারণভাবে ‘হারমোনাইজড ট্যারিফ শিডিউল অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (এইচটিএসইউএস) ’-এর পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে, এবং এই ভাগের বিধানসমূহের ব্যাখ্যা, যার মধ্যে এই ভাগের উপ-শিরোনামগুলোর পণ্য অন্তর্ভুক্ত, এইচটিএসইউএস-এর সাধারণ নোট, বিভিন্ন ভাগের নোট এবং অধ্যায়ের নোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। যতটুকু পর্যন্ত এই ভাগের বিধানসমূহ এইচটিএসইউএস-এর সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের সঙ্গে অভিন্ন, ততটুকু পর্যন্ত এই সূচির বিধানসমূহের অর্থ এইচটিএসইউএস-এর সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের মতোই হবে।
২. এই ভাগে নির্ধারিত বাংলাদেশের উৎোদিত পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী প্রযোজ্য অতিরিক্ত অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক হার প্রয়োগ করবে না।
৩. বাংলাদেশের অন্যান্য সকল উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী নির্ধারিত অতিরিক্ত অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক হার ১৯ শতাংশের বেশি হবে না।
৪. অধিক স্পষ্টতার জন্য, যুক্তরাষ্ট্র অনুচ্ছেদ ২ এবং ৩-এ উল্লিখিত শুল্ক হারসমূহ তার প্রযোজ্য এমএফএন শুল্ক হারের অতিরিক্ত হিসেবে প্রয়োগ করবে।
পরিশিষ্ট ২
বাজারে প্রবেশগম্য পণ্যের তালিকা
ক. চিজ: আমেরিকান, এশিয়াগো, ব্লু, ব্লু ভেইন, ব্রি, বুরাটা, ক্যামেমবার্ট, চেডার, শেভরে, কলবি, কটেজ চিজ, কৌলমিয়ার্স, ক্রিম চিজ, ড্যানবো, এডাম, এমেনটাল, ফেটা, ফনটিনা, গর্গজনা, গৌডা, গ্রানা, গ্রুয়েরে, হাভারটি, লিমবার্গার, ম্যাসকারপন, মনটেরি/মনটেরি জ্যাক, মোজেরেলা, মুনস্টার/মুয়েনস্টার, নিউফচ্যাটেল, পারমিসান, পেকোরিনো, পেপার জ্যাক, প্রোভলোন, রিকোটা, রোমানো, সেইন্ট-পলিন, সামসো, সুইশ, টিলসিটার, এবং টমি।
খ. মাংস: ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, বলোগনা/বলোগনে, ব্র্যাটউর্স্ট, ক্যাপিকোলা/ক্যাপোকোলা, চরিজো, কিলবাসা, মরটাডেলা, প্যানসেটা, প্রসিউটো, এবং সালামে/সালামি।
পরিশিষ্ট ৩
নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিসমূহ
প্রথম ভাগ: অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
শিল্প পণ্য
অনুচ্ছেদ ১.১: চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ
১. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কোনো চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) কর্তৃক প্রদত্ত পূর্ববর্তী বিপণন অনুমোদন বা ছাড়পত্রকে বিপণন অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশের শর্ত পূরণের যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, এবং কম-ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে, যেখানে এফডিএ কর্তৃক অনুমোদন বা ছাড়পত্র প্রয়োজন হয় না, সেখানে বিপণন অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা রাখবে না।
২. বাংলাদেশ মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর বিদেশি সরকারসমূহের জন্য ইলেকট্রনিক সনদপত্রকে (ইসিএফজিসমূহ) চিকিৎসা সরঞ্জামের অনুমোদন প্রয়োজনীয়তা পূরণের যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এফডিএ সনদের হার্ডকপি, মূল কপি, সত্যায়িত কপি, ভেজা স্বাক্ষর, বা অ্যাপোস্টিলের প্রয়োজনীয়তা রাখবে না।
৩. বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল ডিভাইস রেগুলেটর্স ফোরামের (আইএমডিআরএফ) সহযোগী সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করবে এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বিপণন অনুমোদনের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন বা বাস্তবায়নের সময় আইএমডিআরএফ-এর মাধ্যমে প্রণীত প্রাসঙ্গিক বৈজ্ঞানিক বা কারিগরি নির্দেশিকা গ্রহণ করবে।
৪. বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস সিঙ্গেল অডিট প্রোগ্রামের (এমডিএসএপি) প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পরিচালিত এবং এমডিএসএপি-এর অধীনে নিরীক্ষা পরিচালনার জন্য অনুমোদিত নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষসমূহের দ্বারা অনুমোদিত নিরীক্ষা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ডিভাইস প্রস্তুতকারকদের গুণগত ব্যবস্থাপনার নিরীক্ষা ও সনদপত্রকে স্বীকৃতি দেবে। বাংলাদেশ এমডিএসএপি-এর প্রয়োজনীয়তার বাইরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত আরোপ করবে না।
৫. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কোনো ওষুধ পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) কর্তৃক প্রদত্ত পূর্ববর্তী বিপণন অনুমোদনকে তার দেশে বিপণন অনুমোদনের শর্ত পূরণের যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে।
৬. বাংলাদেশ মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর ওষুধ পণ্যের ইলেকট্রনিক সনদপত্রকে অনুমোদন প্রয়োজনীয়তা পূরণের যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এফডিএ সনদের হার্ডকপি, মূল কপি, সত্যায়িত কপি, ভেজা স্বাক্ষর, বা অ্যাপোস্টিলের প্রয়োজনীয়তা রাখবে না।
৭. বাংলাদেশ এমন কোনো ওষুধ পণ্যের জন্য পর্যায়ক্রমিক পুনঃঅনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা রাখবে না, যা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপণন অনুমোদন পেয়েছে, যদি না বাংলাদেশ কোনো উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, বা গুণগত উদ্বেগ চিহ্নিত করে।
৮. বাংলাদেশ নিম্নলিখিত শর্তসমূহ প্রযোজ্য হলে, ওষুধ পণ্যের উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) কর্তৃক পরিচালিত উত্তম উৎপাদন অনুশীলন পর্যবেক্ষণ পরিদর্শনের ফলাফল গ্রহণ করবে এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ দ্বারা অতিরিক্ত পরিদর্শন বা পুনঃপরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা রাখবে না:
(ক) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত; এবং
(খ) প্রতিষ্ঠানের দ্বারা প্রদত্ত সর্বশেষ মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) পরিদর্শন প্রতিবেদন ‘নো অ্যাকশন ইনডিকেটেড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।
অনুচ্ছেদ ১.২: মোটরযান এবং যন্ত্রাংশ
১. বাংলাদেশ এমন যানবাহন এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশ গ্রহণ করবে, যা ইউএস ফেডারেল মোটর ভেহিকেল সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস (এফএমভিএসএস) এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্গমন মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয়, এবং বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহনের অতিরিক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই অটোমোটিভ পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি পদ্ধতি গ্রহণ করবে।
২. বাংলাদেশ এমন অন্যান্য মান বা প্রয়োজনীয়তাগুলো সমাধান করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহন এবং যন্ত্রাংশের বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করে।
অনুচ্ছেদ ১.৩: পুনঃউৎপাদিত পণ্য
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পুনঃউৎপাদিত পণ্য বা তাদের যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং যেকোনো লাইসেন্সিং প্রয়োজনীয়তা অপসারণ করবে।
কৃষি
অনুচ্ছেদ ১.৪: যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং কৃষি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদত্ত সনদপত্র গ্রহণ
১. বাংলাদেশ স্বীকার করবে যে, খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা গৃহীত বা বজায় রাখা স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ব্যবস্থা, যার মধ্যে কারিগরি বিধিমালা এবং মান অন্তর্ভুক্ত, বাংলাদেশে আমদানিকৃত খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের ওপর প্রয়োগকৃত বাংলাদেশের ব্যবস্থার শর্ত পূরণ করে।
২. অনুচ্ছেদ ১-এর পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের বাংলাদেশে আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসমূহের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মার্কিন সরকারি সনদ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, ভবিষ্যতে কোনো দ্বিপাক্ষিক রপ্তানি সনদপত্র বা ইলেকট্রনিক ডেটা উপাদানে কোনো পরিবর্তন আনা হলে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ভিত্তিতে করা হবে।
৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সনদপত্রে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও তথ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসমূহ পূরণের জন্য যা প্রয়োজন ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখবে।
৪. বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি পদক্ষেপ (এসপিএস) সংক্রান্ত চুক্তির পরিশিষ্ট খ এবং টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি) চুক্তির অনুচ্ছেদ ২ ও ৫-এর অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলো পুনর্ব্যক্ত করবে, যাতে উপযুক্ত ক্ষেত্রে ডব্লিউটিও এসপিএস বা টিবিটি কমিটিতে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাসমূহ অবহিত করা হয় এবং ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বে ডব্লিউটিও সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অনুচ্ছেদ ১.৫: স্থাপনা নিবন্ধন/প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি
দুগ্ধজাত পণ্য
১. বাংলাদেশ-
(ক) যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের দুগ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমপর্যায়ের সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে;
(খ) যুক্তরাষ্ট্রের গরু, ভেড়া ও ছাগলের দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি অনুমোদন করবে, যখন তা মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) কৃষি বিপণণ পরিষেবার (এএমএস) দুগ্ধ স্যানিটারি সনদসহ আসবে; এবং
(গ) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানির জন্য কোনো স্থাপনা নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা গ্রহণ বা বজায় রাখবে না।
মাংস ও পোল্ট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোল্ট্রি, সিলুরিফরর্মস এবং ডিম পণ্য
২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাংস ও পোল্ট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোল্ট্রি, সিলুরিফরমস এবং ডিম পণ্য আমদানির অনুমতির উদ্দেশ্যে মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইএসডিএ) খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা (এফএসআইএস) কর্তৃক তত্ত্বাবধানকে স্বীকৃতি দেবে, যার মধ্যে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৩. বাংলাদেশ এফএসআইএস মাংস, পোল্ট্রি ও ডিম পণ্য পরিদর্শন ডিরেক্টরি গ্রহণ করবে, যাতে এফএসআইএস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মাংস, পোল্ট্রি, সিলুরিফরমস, এবং ডিম পণ্য উৎপাদনকারী সকল ফেডারেল পরিদর্শিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা থাকবে, এবং এটিকে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সরকারি তালিকা হিসেবে গণ্য করবে।
৪. বাংলাদেশ এফএসআইএসের পরিদর্শন করা এবং এফএসআইএস এক্সপোর্ট সার্টিফিকেট অব হোলসামনেস (এফএসআইএস ৯০৬০-৫ সিরিজ সার্টিফিকেট) অথবা ইলেকট্রনিক ডেটা উপাদানসহ, বা এর কোনো সংস্করণসহ, যুক্তরাষ্ট্রের মাংস ও পোল্ট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোল্ট্রি, সিলুরিফরমস, এবং ডিম পণ্য গ্রহণ করবে।
৫. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাংস ও পোল্ট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোল্ট্রি, সিলুরিফরমস, এবং ডিম পণ্যের ওপর কোনো অতিরিক্ত পণ্য নিবন্ধন বা স্থাপনা নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা আরোপ করবে না।
অনুচ্ছেদ ১.৬: কৃষি জৈবপ্রযুক্তি
১. কৃষি জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে খাদ্য সরবরাহে সহায়তা এবং ইনপুটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে, বাংলাদেশ কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্যের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং দক্ষ অনুমোদন প্রক্রিয়া বজায় রাখবে, যাতে এই ধরনের পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি সহজতর হয়।
২. কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্যের নিরাপত্তা মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্বীকার করে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে, বাংলাদেশ একটি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, যার মাধ্যমে এমন কোনো কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে আইনত বিক্রয়যোগ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রাসঙ্গিক প্রাক-বাজার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, তা বাংলাদেশে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের দ্বারা কোনো প্রাক-বাজার পর্যালোচনা, নিয়ন্ত্রণ মুক্তকরণ, অতিরিক্ত লেবেলিং প্রয়োজনীয়তা, বা অনুমোদন ছাড়াই আমদানি ও বিপণনের জন্য অনুমোদিত হবে।
৩. বাংলাদেশ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে একটি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, যাতে নিশ্চিত করা হয় যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কৃষিপণ্য রপ্তানিকে প্রভাবিতকারী নিম্ন-স্তরের উপস্থিতি (এলএলপি) সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা মোকাবিলা করবে-
(ক) অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই; এবং
(খ) যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো তৃতীয় দেশ কর্তৃক প্রদত্ত প্রাসঙ্গিক ঝুঁকি বা নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং অনুমোদন বিবেচনায় নিয়ে।
অনুচ্ছেদ ১.৭: অজীব পরিবর্তিত পণ্য
বাংলাদেশ স্বীকার করে যে, কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্য থেকে প্রাপ্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কৃষিপণ্যসমূহে অজীব পরিবর্তিত পণ্য থাকে না, এবং তাই এগুলো বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আওতাভুক্ত নয়। এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে, ‘প্রক্রিয়াজাত’-এর সংজ্ঞায় তাপ প্রয়োগ, গুঁড়ো করা, বা অন্যান্য প্রক্রিয়াকরণ অন্তর্ভুক্ত, যা কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্যের অঙ্কুরোদগমের ক্ষমতা দূর করে।
অনুচ্ছেদ ১.৮: উচ্চমাত্রার সংক্রামক পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা-জীবিত পোল্ট্রি ও পোল্ট্রি পণ্য
১. বাংলাদেশ জীবিত পোল্ট্রি, পোল্ট্রি জেনেটিকস, পোল্ট্রি পণ্য, এবং ডিম ও ডিম পণ্যের আমদানির সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে না, যা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ (ডব্লিউওএএইচ) টেরেস্ট্রিয়াল অ্যানিমেল হেলথ কোড চ্যাপ্টার (টিএএইচসি) ১০.৪ (উচ্চমাত্রার সংক্রামক পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সংক্রমণ) বা এর কোনো পরবর্তী কোনো সংস্করণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষভাবে, বাংলাদেশ পোল্ট্রি আমদানি সংক্রান্ত সংজ্ঞা ডব্লিউওএএইচ টিএএইচসি-এর পোল্ট্রি সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে।
২. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে, বাংলাদেশ জীবিত পোল্ট্রি, পোল্ট্রি জেনেটিকস, পোল্ট্রি পণ্য, এবং ডিম ও ডিম পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এইচপিএআই আঞ্চলিকীকরণের পরিধি রাজ্য স্তর থেকে ১০ কিলোমিটার অঞ্চলে সীমিত করবে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, এইচপিএআই প্রাদুর্ভাবের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জীবিত পোল্ট্রি, পোল্ট্রি জেনেটিকস, পোল্ট্রি পণ্য এবং ডিম ও ডিম পণ্যের উপর আরোপিত যেকোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র সেই ১০ কিলোমিটার অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, যেখানে প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হয়েছে।
৩. বাংলাদেশ মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিসকে (এপিএইচআইএস) উপযুক্ত প্রাণী স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, যা নির্ধারণ করবে কোনো ১০ কিলোমিটার অঞ্চল ডব্লিউওএএইচ টিএএইচসি চ্যাপ্টার ১০.৪ বা এর পরবর্তী কোনো সংস্করণ অনুযায়ী এইচপিএআই-মুক্ত হিসেবে বিবেচিত কিনা, এবং সে অনুযায়ী বাংলাদেশে জীবিত পোল্ট্রি এবং পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানির জন্য যোগ্য কিনা, এবং বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য প্রয়োগকৃত সীমাবদ্ধতার বাইরে জীবিত পোল্ট্রি, পোল্ট্রি জেনেটিকস, পোল্ট্রি পণ্য, এবং ডিম ও ডিম পণ্যের উপর কোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।
অনুচ্ছেদ ১.৯: হালাল সনদপত্র
যদি বাংলাদেশ হালাল সনদপত্র প্রয়োজনীয়তা রাখে, তাহলে বাংলাদেশ এমন যেকোনো যুক্তরাষ্ট্রের হালাল সনদদাতাকে অনুমোদন দেবে, যা বাংলাদেশের হালাল প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে, যাতে তারা অতিরিক্ত কোনো শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশে আমদানির জন্য পণ্যকে হালাল হিসেবে সনদ প্রদান করতে পারে।
অনুচ্ছেদ ১.১০: সর্বোচ্চ অবশিষ্ট মাত্রা (এমআরএলসমূহ)
১. বিজ্ঞানভিত্তিক এবং ঝুঁকিভিত্তিক এমআরএল নির্ধারণের গুরুত্ব স্বীকার করে, এমন ক্ষেত্রে যেখানে বাংলাদেশ কোনো এমআরএল নির্ধারণ করেনি, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের সহনীয় মাত্রা (টলারেন্স) স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংশ্লিষ্ট সহনীয় মাত্রা বজায় না রাখে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কোডেক্স অ্যালিমেনটারিয়াস (কোডেক্স) এমআরএল স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে।
২. প্রাসঙ্গিক এমআরএল-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যতার কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ প্রয়োজন হলে কেবলমাত্র সেই সত্বার ওপর উন্নত, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি প্রয়োগ করবে, যা অসামঞ্জস্যতার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সত্তাকে অভিযোগ লঙ্ঘনের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন বা সমাধানের সুযোগও প্রদান করবে।
৩. বাংলাদেশ এমআরএল অসামঞ্জস্যতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সত্ত্বাগুলোর স্থগিতাদেশ কেবলমাত্র দায়ী সত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে এবং শুধুমাত্র একাধিকবার অসামঞ্জস্যতার ঘটনার পর তা প্রয়োগ করবে।
৪. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, এমআরএল-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সূচক অবশিষ্টাংশ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি এমআরএল, যুক্তরাষ্ট্রের সহনীয় মাত্রা, বা প্রয়োগকৃত কোডেক্স এমআরএল নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত মৌলিক ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নিশ্চিত করবে যে পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সূচক অবশিষ্টাংশ স্বচ্ছভাবে জানানো হবে।
অনুচ্ছেদ ১.১১: উদ্ভিদ এবং উদ্ভিদজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার
১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশে জমা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজার প্রবেশাধিকার অনুরোধগুলোর ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ বাজার প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং অনুরোধগুলো জমা দেওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে আমদানি অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রোটোকল বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাবে।
২. কীটপতঙ্গ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মান হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফর ফাইটোস্যানিটারি মেজারস ১৪ (আইএসপিএম ১৪) স্বীকৃতি দিয়ে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদজাত পণ্য বাংলাদেশে আমদানির জন্য সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ প্রোটোকলের ব্যবহার গ্রহণ করবে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদজাত পণ্যের সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ সংক্রান্ত অনুরোধগুলো মন্ত্রণালয় ২৪ মাসের মধ্যে একটি সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ প্রোটোকলে সম্মত হবে।
আমদানি লাইসেন্সিং
অনুচ্ছেদ ১.১২: আমদানি লাইসেন্সিং
১. বাংলাদেশ আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতি সম্পর্কিত তার বার্ষিক প্রশ্নপত্র অ্যাগ্রিমেন্ট অন ইমপোর্ট লাইসেন্সিং প্রসিডিউরস-এর অনুচ্ছেদ ৭.৩ অনুযায়ী অবিলম্বে ডব্লিউটিওতে জমা দেবে।
২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য পণ্য বা কৃষিপণ্য পাঠানোর পূর্বে কোনো আমদানি অনুমতিপত্র বা ঋণপত্রের (লেটার অব ক্রেডিট) প্রয়োজনীয়তা রাখবে না।
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ
অনুচ্ছেদ ১.১৩: ভৌগোলিক নির্দেশক
আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনসহ ভৌগোলিক নির্দেশকের সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-
(ক) পরীক্ষা, আপত্তি, এবং বাতিলকরণের জন্য স্বচ্ছ এবং ন্যায্য পদ্ধতি নিশ্চিত করবে, যার মধ্যে অনুবাদ বা ট্রান্সলিটারেশন সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত;
(খ) প্রত্যাখ্যান, আপত্তি, এবং বাতিলকরণের ভিত্তির মধ্যে পূর্ববর্তী ট্রেডমার্কের সঙ্গে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য তার ভূখণ্ডে সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম হিসেবে শব্দটির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করবে;
(গ) কোন উপাদান বা উপাদানসমূহ সুরক্ষিত হচ্ছে এবং কোনগুলো সুরক্ষিত হচ্ছে না তা সর্বসাধারণের জন্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করবে;
(ঘ) বহুউপাদান বিশিষ্ট কোনো শব্দের পৃথক কোনো উপাদানকে সুরক্ষা প্রদান করবে না, যদি সেই পৃথক উপাদানটি তার ভূখণ্ডে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
(ঙ) তার ভূখণ্ডে সুরক্ষিত বা স্বীকৃত ভৌগোলিক নির্দেশকের প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো শব্দ, চিহ্ন, বা চিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রতিরোধ করবে না; এবং
(চ) কোনো শব্দ তার ভূখণ্ডে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম কিনা তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, ভোক্তারা শব্দটি কীভাবে বোঝে তা বিবেচনায় নেওয়ার সক্ষমতা রাখবে এবং স্বীকার করবে যে সেই ভোক্তা বোঝাপড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়সমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
* শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কিনা, যেমন অভিধান, সংবাদপত্র, এবং প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের মতো যোগ্য উৎস দ্বারা নির্দেশিত;
* শব্দ দ্বারা নির্দেশিত পণ্যটি তার ভূখণ্ডে কীভাবে বাজারজাত এবং বাণিজ্যে ব্যবহৃত হয়;
* শব্দটি প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মানে তার ভূখণ্ডে কোনো পণ্যের ধরন বা শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কিনা, যেমন কোডেক্স দ্বারা প্রণীত মান অনুসারে;
* যে ব্যক্তি শব্দটির ওপর অধিকার দাবি করে, তার বাইরে অন্য ব্যক্তিরা শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকারের নাম হিসেবে ব্যবহার করে কিনা;
* সংশ্লিষ্ট পণ্যটি তার ভূখণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অন্য কোনো স্থান থেকে আমদানি করা হয় কিনা, যা আবেদন বা পিটিশনে চিহ্নিত ভূখণ্ডের বাইরে, এবং সেই আমদানিকৃত পণ্যগুলো ওই শব্দ দ্বারা নামকরণ করা হয় কিনা; এবং
* শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যটি আবেদন বা পিটিশনে চিহ্নিত ভূখণ্ডের বাইরে অন্য কোনো স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত বা বাণিজ্য করা হয় কিনা।
অনুচ্ছেদ ১.১৪: আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ
বাংলাদেশ নিম্নলিখিত প্রতিটি চুক্তিতে অনুসমর্থন বা অন্তর্ভুক্ত হবে, যদি সে ইতিমধ্যে এসব চুক্তির পক্ষ না হয়ে থাকে, এবং নিচে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রতিটি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে:
(ক) বার্ন কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব লিবার্টি অ্যান্ড আর্টিস্টিক ওয়ার্কস, যা ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৮৬ তারিখে বার্ন-এ গৃহীত এবং ২৪ জুলাই ১৯৭১ তারিখে প্যারিসে সংশোধিত;
(খ) বুদাপেস্ট ট্রিটি অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অব দ্য ডিপোজিট অব দ্য মাইক্রোঅর্গানিজমস ফর দ্য পারপাসেস অব পেটেন্ট প্রসিডিউর, যা ২৮ এপ্রিল ১৯৭৭ তারিখে বুদাপেস্টে গৃহীত এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ তারিখে সংশোধিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(গ) জেনেভা অ্যাক্ট অব দ্য হেগ অ্যাগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব দ্য ইনন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনস, যা ২ জুলাই ১৯৯৯ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(ঘ) প্রটোকল রিলেটিং টু দ্য মাদ্রিদ অ্যাগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব দ্য মার্কস, যা ২৭ জুন ১৯৮৯ তারিখে মাদ্রিদে গৃহীত। ৩ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(ঙ) মারাক্কেশ ট্রিটি টু দ্য ফ্যাসিলিটেট অ্যাকসেস টু পাবলিশড ওয়ার্কস ফর পারসন হু আর ব্লাইন্ড, ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড অর আদারওয়াইজ প্রিন্ট ডিজঅ্যাবলড, যা ২৭ জুন ২০১৩ তারিখে মারাক্কেশে গৃহীত;
(চ) প্যারিস কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোপার্টি, যা ২০ মার্চ ১৮৮৩ তারিখে প্যারিসে গৃহীত এবং ১৪ জুলাই ১৯৬৭ তারিখে স্টকহোমে সংশোধিত;
(ছ) প্যাটেন্ট কোঅপারেশন ট্রিটি, যা ১৯ জুন ১৯৭০ তারিখে ওয়াশিংটনে গৃহীত, ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ তারিখে সংশোধিত এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ তারিখে পরিবর্তিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(জ) প্যাটেন্ট ল ট্রিটি, যা ১ জুন ২০০০ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(ঝ) সিঙ্গাপুর ট্রিটি অন দ্য ল অব ট্রেডমার্কস, যা ২৭ মার্চ ২০০৬ তারিখে সিঙ্গাপুরো গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(ঞ) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব নিউ ভ্যারাইটিজ অব প্ল্যান্টস, যা ২ ডিসেম্বর ১৯৬১ তারিখে প্যারিসে গৃহীত এবং ১৯ মার্চ ১৯৯১ তারিখে জেনেভায় সংশোধিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;
(ট) ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও) কপিরাইট ট্রিটি, যা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে; এবং
(ঠ) ডব্লিউআইপিও পারফরম্যান্সেস অ্যান্ড ফনোগ্রামস ট্রিটি, যা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিষেবা ও বিনিয়োগ
অনুচ্ছেদ ১.১৫: পরিষেবা
১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে, বাংলাদেশ সার্ভিসেস ডোমেস্টিক রেগুলেশন সংক্রান্ত জয়েন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগদান করবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে ডব্লিউটিও দ্বারা সার্টিফিকেশনের জন্য তার সংশোধিত স্পেসিফিক কমিটমেন্টস জমা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২. বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক রিইনস্যুরেন্স সেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা বাতিল করবে, যার মধ্যে মার্কিন বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের ব্যবসার অন্তত ৫০% সাধারন বীমা কর্পোরেশন-এর সঙ্গে রিইনস্যুর করার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১.১৬: বিনিয়োগ
১. বাংলাদেশ তেল ও গ্যাস, বীমা এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের জন্য তার বিদেশি ইকুইটি সীমা শিথিল করবে।
২. বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজতর করবে।
৩. বাংলাদেশ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে সেই অনুমোদন প্রক্রিয়াগুলোতে, যার মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা প্রচলিত বাজার বিনিময় হারে স্বাধীনভাবে ব্যবহারযোগ্য মুদ্রায় বিনিয়োগ-সম্পর্কিত মূলধন তার ভূখণ্ডে আনা-নেওয়া করতে পারে, যার মধ্যে অনুমোদনের সময়সীমা সম্পর্কিত স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৪. বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থায়ন কর্মসূচির অঙ্গীকার অনুযায়ী এবং অবিলম্বে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধ করবে।
পণ্য নিয়ন্ত্রক অনুশীলন ও স্বচ্ছতা
অনুচ্ছেদ ১.১৭: পণ্য নিয়ন্ত্রক অনুশীলন
কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যায়ে উত্তম নিয়ন্ত্রক চর্চা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ-
(ক) নিশ্চিত করবে যে আইন, বিধি, প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত প্রকাশিত হয় এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তিসাধ্য হয়;
(খ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহের পাঠ্য, সেই সাথে যেকোনো নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণ, বিধির ব্যাখ্যা এবং এর উদ্দেশ্য প্রকাশ করবে এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তিসাধ্য করবে;
(গ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহের জন্য স্বচ্ছ পদ্ধতিতে জনপরামর্শ গ্রহণ করবে; দেশীয় ও বিদেশি আগ্রহী ব্যক্তিদের মন্তব্য জমা দেওয়ার জন্য যথাযথ সময় প্রদান করবে, প্রস্তাবিত বিধির জটিলতা বা সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে; এবং প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনায় নেবে;
(ঘ) পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত পূর্ব নোটিশ প্রদান করবে এবং নিকট ভবিষ্যতে যেসব নিয়ন্ত্রক নীতির অগ্রাধিকার উন্নয়ন, সংশোধন বা বিলুপ্ত করা হবে তা প্রকাশ করবে;
(ঙ) বিধি প্রণয়ন ও উন্নয়নের সময়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত উচ্চমানের ডেটা, প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবহার করবে;
(চ) বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় বাধা এড়াতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মান, নির্দেশিকা এবং সুপারিশ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা সমর্থন করবে;
(ছ) কার্যকর বিধিসমূহের পর্যালোচনা করবে এই নির্ধারণের জন্য যে নতুন তথ্য বা অন্যান্য পরিবর্তন বিধির সংশোধন বা বাতিলের যৌক্তিকতা প্রদান করে কিনা; এবং
(জ) বিধির প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের জন্য নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণের মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করবে, যা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিধির বিকল্প পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
অনুচ্ছেদ ১.১৮: দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা
দুর্নীতি মোকাবেলার জন্য, বাংলাদেশ বিস্তৃত দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিমালা শক্তিশালীকরণ, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সত্বার জন্য স্পষ্ট শাস্তি ও পরিণতি নির্ধারণে; এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা জনকার্য সঠিকভাবে সম্পাদন এবং স্বার্থের সংঘাত পরিহারের জন্য আচরণবিধি গ্রহণ ও বজায় রাখবে। এ প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ, স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ, এবং নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন প্রদানের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য পোষণ করে।
শ্রম
অনুচ্ছেদ ১.১৯: শ্রম আইন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা
১. বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করবে এবং সমিতি/সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার সুরক্ষার জন্য বাস্তবায়ন বিধি প্রণয়ন করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
(ক) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য ২০ শতাংশ নিবন্ধন সীমা এমন পর্যায়ে হ্রাস করা, যা ইউনিয়ন গঠনে বাধা সৃষ্টি করবে না;
(খ) কোনো ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিল করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শ্রম আদালতের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা;
(গ) ইউনিয়ন সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা সীমিত করা, যেমন কারখানার পরিচয়পত্র নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ;
(ঘ) ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য শুধুমাত্র একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য উপস্থিত থাকবে এবং গঠনতন্ত্র গৃহীত হবে ও সভার কার্যবিবরণী জমা দেওয়া হবে;
(ঙ) ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য এবং অন্যায্য শ্রম অনুশীলনের (ইউএলপি) জন্য জরিমানার পরিমাণ এমন স্তরে বৃদ্ধি করা, যা নিয়োগকর্তাদের এ ধরনের কার্য থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হয়;
(চ) শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করাকে একটি ইউএলপি হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা স্পষ্ট করা এবং শ্রমিক ও ইউনিয়নসমূহকে সরাসরি বাংলাদেশ শ্রম আদালতে ইউএলপি মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া; এবং
(ছ) ধর্মঘটের অধিকারের উপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা অপসারণ করা, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোনো সময়ের জন্য ধর্মঘটের অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত, অন্তর্ভুক্ত।
২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেডসমূহ) শ্রমিকেরা তাদের সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকার সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে পারে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
(ক) এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার দুই বছরের মধ্যে ইডিজেডসমূহকে শ্রম আইনের আওতাভুক্ত করা, যাতে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যোগদান করতে পারে, অথবা ইপিজেড শ্রম আইনকে ব্যাপকভাবে সংস্কার করা, যাতে স্বাধীন ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ থাকে; এবং
(খ) ইপিজেড শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা, যা শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যাতে ধর্মঘটের অধিকারের ওপর কোনো অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা না থাকে, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোনো সময়ের জন্য ধর্মঘটের অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কঠোর শাস্তি অন্তর্ভুক্ত।
৩. বাংলাদেশ বৈধ ইউনিয়ন এবং প্রতিবাদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে পোশাক শ্রমিক এবং শ্রম নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চলমান ফৌজদারি মামলাগুলো, প্রয়োজন অনুযায়ী, নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার করবে, যার মধ্যে ২০২৩ সালের ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত শ্রম অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ এবং নিয়মিত ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে এবং এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে। এছাড়াও, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে এই প্রক্রিয়া প্রণয়নের সময় এবং পর্যালোচনা পরিচালনার সময় তাদের মতামত প্রদানের সুযোগ দেবে।
৫. শ্রমিকেরা যাতে কার্যকরভাবে তাদের সমিতি গঠনের স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য, বাংলাদেশ-
(ক) প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা পূরণকারী ইউনিয়ন আবেদনসমূহ ৫৫ দিনের আইনি সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে;
(খ) শ্রম অধিদপ্তরের বিদ্যমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে সকল মুলতুবি আবেদনের অবস্থা প্রকাশ করবে; এবং
(গ) নিবন্ধনের জন্য মানসম্মত কার্যপ্রণালী সংশোধন করবে, যাতে শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করা হয় এবং তা সংশোধিত শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
৬. শ্রম আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগ সহজতর করার জন্য, বাংলাদেশ-
(ক) শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শ্রম পরিদর্শক পদ অনুমোদন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও নিয়োগদান, এবং তাদের জন্য পদোন্নতির পথ নিশ্চিত করার জন্য বার্ষিক বাজেটে অধিক অর্থ বরাদ্দ করবে;
(খ) শ্রম পরিদর্শকদের অঘোষিত পরিদর্শন পরিচালনার ক্ষমতা ও সম্পদ নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশে সকল কর্মস্থলে, যার মধ্যে ইপিজেডসমূহ অন্তর্ভুক্ত, শ্রম আইন লঙ্ঘন, যার মধ্যে জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশু শ্রম সংক্রান্ত লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত, মোকাবেলার জন্য আইনি শাস্তি আরোপ করতে সক্ষম হবে;
(গ) দেশীয় শ্রম, অগ্নি, বা ভবন মানদণ্ড এবং কোডসমূহ অনুসরণে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তি এমন স্তরে বৃদ্ধি করবে, যা লঙ্ঘন প্রতিরোধে সহায়ক হয়; এবং
(ঘ) শ্রম আইনের লঙ্ঘনসমূহ, যার মধ্যে ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা, এবং অন্যান্য ইউপিএলসমূ অন্তর্ভুক্ত, দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি করবে।
পরিবেশ
অনুচ্ছেদ ১.২০: পরিবেশ আইন এবং নীতিমালা
বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার পরিবেশ আইন এবং নীতিমালা উচ্চমাত্রার পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং তা উৎসাহিত করে।
অনুচ্ছেদ ১.২১: অবৈধ কাঠ কাটানো এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য
১. বাংলাদেশ অবৈধভাবে আহরিত বনজ পণ্যের বাণিজ্য মোকাবেলা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করবে। এ ধরনের ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বন খাতের শাসনব্যবস্থার বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং বন সম্পদের প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিস্তৃত দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিমালা শক্তিশালীকরণ, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগ করা।
২. বাংলাদেশ বন খাতে স্বচ্ছতা উন্নত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যার মধ্যে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা এবং একটি সহজলভ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং কাঠ কাটার অনুমতিপত্রের জনসমক্ষে প্রকাশ অন্তর্ভুক্ত।
অনুচ্ছেদ ১.২২: সম্পদ-দক্ষ অর্থনীতি
বাংলাদেশ একটি আরও সম্পদ-দক্ষ অর্থনীতি উন্নীত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ধরনের ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এমন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করা, যা আরও সম্পদ-দক্ষ অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করে; উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, যা চক্রাকার অর্থনীতিকে উন্নীত করে, যেমন পণ্যের নকশায় সম্পদ দক্ষতা উন্নত করার মাধ্যমে; এবং বিপরীত সরবরাহ শৃঙ্খল সক্ষম করার জন্য বাণিজ্য সহজীকরণমূলক পন্থা উন্নীত করা।
অনুচ্ছেদ ১.২৩: মৎস্য ভর্তুকি
১. বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অ্যাগ্রিমেন্ট অন ফিশারিজ সাবসিডিজ (এএফএস) এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ গ্রহণ করবে, যার মধ্যে ক্ষতিকর কিছু মৎস্য ভর্তুকির উপর নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত, যেমন অবৈধ, অপ্রতিবেদিত, এবং অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মাছ ধরা এবং অতিমাত্রায় আহরিত মজুদের জন্য ভর্তুকি নিষিদ্ধ করার বিধান, এবং স্বচ্ছতা ও ভর্তুকি সংক্রান্ত নোটিফিকেশন উন্নত করা।
২. এএফএস গ্রহণের পর, এএফএস-এর অনুচ্ছেদ ১২ সত্ত্বেও বাংলাদেশ এএফএস-এর বাধ্যবাধকতাসমূহ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।
৩. এ ছাড়াও, বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার মৎস্য ভর্তুকিসমূহ অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা বৃদ্ধি করে না, যার মধ্যে শক্তিশালী মৎস্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর ব্যবহার এবং এসব ভর্তুকির সংস্কার অন্তর্ভুক্ত।
অনুচ্ছেদ ১.২৪: টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং আইইউইউ মাছ ধরা
১. বাংলাদেশ একটি টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা পরিচালনা করবে, যা সামুদ্রিক প্রাকৃতিক মাছ ধরাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং হাঙর, সামুদ্রিক কচ্ছপ, সামুদ্রিক পাখি, এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীসহ সামুদ্রিক প্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ উন্নীত করে।
২. বাংলাদেশ মৎস্য সম্পর্কিত আইন, বিধিমালা, এবং অন্যান্য ব্যবস্থার প্রয়োগ জোরদার করবে, যাতে কার্যকরভাবে আইইউইউ মাছ ধরা মোকাবিলা করা যায় এবং আইইউইউ মাছ ধরা থেকে প্রাপ্ত পণ্যের বাণিজ্য নিরুৎসাহিত করা যায়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
(ক) বন্দর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা, যার মধ্যে পোর্ট স্টেট মেজান্স অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত;
(খ) বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এবং তার নাগরিকদের আইইউইউ মাছ ধরায় জড়িত হওয়া নিরুৎসাহিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ বা জোরদার করা; এবং
(গ) সমুদ্রে আইইউইউ মাছ ধরা থেকে আহরিত মাছ বা সেই মাছ থেকে উৎপন্ন পণ্যের স্থানান্তর প্রতিরোধ করা।
অনুচ্ছেদ ১.২৫: অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য মোকাবিলা
বাংলাদেশ এমন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বাণিজ্য মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রতিরোধে সহযোগিতা করবে, যা ঐ দেশের আইন বা অন্য কোনো প্রযোজ্য আইনের লঙ্ঘন করে আহরিত বা বাণিজ্য করা হয়েছে, যার মধ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত:
(ক) বন্দরসমূহে বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদ, এবং তাদের অংশ ও পণ্যসমূহ বহনকারী চালানের পরিদর্শনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(খ) বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অবৈধভাবে আহরিত বা বাণিজ্য করা হয়েছে এমন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের তার ভূখণ্ড দিয়ে স্থানান্তরিত বাণিজ্য মোকাবেলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং
(গ) বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের ইচ্ছাকৃত আন্তঃসীমান্ত পাচারকে ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম-এ সংজ্ঞায়িত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা।
অনুচ্ছেদ ১.২৬: বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশন (সিআইটিইএস)
বাংলাদেশ সিআইটিইএস তালিকাভুক্ত প্রাণী প্রজাতির বৈধ এবং টেকসই বাণিজ্য নিশ্চিত করার জন্য সিআইটিইএস-এর বাস্তবায়ন জোরদার করবে, যার মধ্যে সিআইটিইএস বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় আইন প্রণয়নের খসড়া চূড়ান্তকরণ এবং সিআইটিইএস সচিবালয়ে জমা প্রদান অন্তর্ভুক্ত।
শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণ
অনুচ্ছেদ ১.২৭: শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণ
১. বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে অন্য ব্যক্তিগত পক্ষের কাছে পণ্য পরিবহনের জন্য জারি করা বিল অব লেডিং-এর আইনগত বৈধতা অস্বীকার করবে না শুধুমাত্র এই ভিত্তিতে যে বিল অব লেডিংটি ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে রয়েছে।
২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের দ্বারা বাংলাদেশ কাস্টমস (রাজস্ব বোর্ড)-এ জমা দেওয়া তথ্যকে অননুমোদিত প্রকাশ থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে।
৩. যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এক্সপ্রেস চালানের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের ইমিডিয়েট রিলিজ গাইডলাইনস বাস্তবায়ন করবে, যাতে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্যাকেজগুলো আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামে স্থানান্তর ছাড়াই খালাস হয়।
৪. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনকারী বা তাদের প্রতিনিধিদের ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট (আইজিএম) তথ্য নিবন্ধনের পর সংশোধনের অনুরোধ করতে সহায়তা করবে এবং সেই অনুরোধসমূহ বাংলাদেশ কাস্টমস দ্বারা মূল্যায়নের সুবিধা প্রদান করবে।
৫. বাংলাদেশ তথ্য প্রকাশ এবং প্রাপ্যতা সম্পর্কিত ডব্লিউটিও অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (টিএফএ)-এর ১.৪ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।
৬. বাংলাদেশ জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেড-১৯৯৪-এর অনুচ্ছেদ-৭ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার জাতীয় কাস্টমস মূল্যায়ন আইন এবং বিষয়সমূহের চেকলিস্টের উত্তর ডব্লিউটিওতে জমা দেবে।
৭. বাংলাদেশ একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বা বজায় রাখবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মাংস, পোল্ট্রি, সিলুরিফরমস, এবং ডিম পণ্যের রপ্তানির জন্য মার্কিন কৃষি দপ্তরের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা থেকে সিস্টেম-টু-সিস্টেম ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেশন ডেটা গ্রহণ করবে, উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মত সময়সীমার মধ্যে।
দ্বিতীয় ভাগ: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি
১. বাংলাদেশ গ্লোবাল ক্রসবর্ডার প্রাইভেসি রুলস (সিবিপিআর) সিস্টেম এবং গ্লোবাল প্রাইভেসি রিকগনিশন ফর প্রসেসরস (পিআরপি) সিস্টেম সার্টিফিকেশনকে তার আইনগত কাঠামোর অধীনে বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, যাতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে এবং সম্মতি ব্যয় কমিয়ে সীমান্তপারের ডেটা স্থানান্তর করা যায়।
২. বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার পরামর্শ বৃদ্ধি করবে এবং নিশ্চিত করবে যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও সংশোধনের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়।
৩. বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করবে এবং সাইবার অপরাধের জন্য কঠোরতর শাস্তি আরোপের উদ্দেশ্যে প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করবে।
৪. বাংলাদেশ ২০২১ সালের রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, স্যোশাল মিডিয়া অ্যান্ড ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফরমস সংশোধন বা বাতিল করবে, যাতে এন্ড-টুএন্ড এনক্রিপ্টেড সেবার ক্ষেত্রে ট্রেসেবিলিটির প্রয়োজনীয়তা এবং সেবা প্রদানকারীদের সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে এনক্রিপশন কী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা অপসারণ হয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত হয়।
৫. বাংলাদেশ
(a) আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) রেগুলেশনসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের (৬.৪২৫-৭. ১২৫ গিগাহার্জ) ওপরের ৬০০-৭০০ মেগাহার্টজ অংশকে লাইসেন্স-মুক্ত ওয়্যারলেস/রেডিও লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ডব্লিউল্যান/আরল্যান) প্রযুক্তির জন্য লো পাওয়ার ইনডোর (এলপিআই) এবং ভেরি লো পাওয়ার (ভিএলপি) ডিভাইস শ্রেণির জন্য উন্মুক্ত করবে; এবং
(খ) ৬ গিগাহার্জ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের (৫.৯২৫-৭. ১২৫ গিগাহার্জ) ১১০০-১২০০ মেগাহার্জ অংশে কার্যরত ডব্লিউল্যান/আরল্যান ডিভাইসের সার্টিফিকেশনের জন্য হোমোলোগ্যাশন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করবে, যা ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ওপরের অংশ লো পাওয়ার ডব্লিউল্যান/আরল্যান ডিভাইসের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) রেগুলেশনসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশনের ৩০ দিনের মধ্যে করা হবে।
তৃতীয় ভাগ: অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা
১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার বন্দর, বন্দর টার্মিনাল, এবং লজিস্টিক ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক, এবং তার বাণিজ্যিক নৌবহর এমন ডিজিটাল লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যা উপযুক্ত সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষা, তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ থেকে সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা, এবং অন্যান্য বিদেশি সরকারের দ্বারা ডেটা-অ্যাক্সেস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
২. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনসের (ইএআর) অধীন যুক্তরাষ্ট্র-উৎপাদিত বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অননুমোদিত রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি, এবং দেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর সীমিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যদি না রপ্তানিকারক মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) থেকে পুনঃরপ্তানি অনুমোদন উপস্থাপন করে বা প্রমাণ করে যে বিআইএস অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষ ইএআর-এর অধীন পণ্যসমূহ সম্পর্কে সহযোগিতা করবে এবং তথ্য বিনিময় করবে।
৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র-উৎপাদিত বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত তার কাস্টমস এবং লেনদেন তথ্য যাচাই এবং ভাগাভাগি করবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের, যার মধ্যে বিআইএস বা তার প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত, উদ্বেগজনক লেনদেন শনাক্ত করা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও মোকাবেলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।
৪. বাংলাদেশ দেশীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োগ প্রক্রিয়া উন্নয়ন করবে, যার মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, এবং নিরীক্ষা ও তদন্ত সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং প্রয়োজনে এসব প্রয়োগমূলক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারিত্ব করবে, যার মধ্যে লঙ্ঘন ঘটতে পারে এমন ক্ষেত্রে তথ্য ভাগাভাগি এবং শেষ-ব্যবহার যাচাই ও তদন্তে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত।
৫. বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ দ্বারা চিহ্নিত জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশগুলোর সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ শৃঙ্খলে সফটওয়্যার নকশা, উন্নয়ন, এবং সরবরাহে সম্পৃক্ততা সীমিত করার চেষ্টা করবে এবং সম্ভব হলে এসব সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ষষ্ঠ ভাগ. বাণিজ্যিক বিবেচনা
১. বাংলাদেশ তার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস)-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ, এবং সেবার ক্রয় বৃদ্ধি সহজতর করার চেষ্টা করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করে, পাশাপাশি অতিরিক্ত বিমান ক্রয়ের একটি অপশন রয়েছে।
২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তি করার, ক্রয় বা বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় সহজতর করার চেষ্টা করবে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার হবে।
৩. বাংলাদেশ তার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ক্রয় বা বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় সহজতর করার চেষ্টা করবে, যার মধ্যে গম (পাঁচ বছরের জন্য প্রতি বছর অন্তত ৭ লাখ মেট্রিক টন), সয়াবিন এবং সয়াজাত পণ্য (এক বছরে অন্তত ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যেটি কম), এবং তুলা অন্তর্ভুক্ত, যার মোট আনুমানিক মূল্য হবে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
৪. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সীমিত করবে।
৫. বাংলাদেশ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ডব্লিউটিও অ্যাগ্রিমেন্ট অন সাবসিডিজ অ্যান্ড কাউন্টারভেইলিং মেজার্স-এর অনুচ্ছেদ ২৫.১ অনুযায়ী প্রদত্ত সকল ভর্তুকি সম্পর্কে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ নোটিফিকেশন জমা দেবে।
