প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় মারা গেলেন আহত পথচারী নারী

✍︎ বগুড়া প্রতিনিধি ✍︎ 

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ও তাঁর স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছেন গুরুতর আহত পথচারী নারী ফিরোজা বেগম (৫৫)। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনার পর বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসীন ছিলেন তিনি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম হোসেন। ফিরোজা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। 

ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক বড় ব্রিজের পূর্বপাশে হরিপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই পথচারী রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে। পরে পথচারী ও স্থানীয় লোকজন প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী হাঁটু ও দুই পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম অক্ষত রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির চালকও আহত হয়েছেন। 

আব্দুল বারী জয়পুরহাটে দুইদিনের সরকারি সফরে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে কালাই পৌর শহরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান করছেন। 

দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ‌‘দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। রাস্তা থেকে গাড়িটি ফসলের মাঠে পড়ে গিয়ে স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে হাঁটু ও দুই পায়ে ব্যথা পেয়েছি।’  

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে এক পথচারী রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছেন।

ফিরোজা বেগমের গন্তব্য ছিল মেয়ের বাড়ি

সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ফিরোজা বেগমের গন্তব্য ছিল মেয়ের বাড়ি। বড় মেয়ে শিরি বেগমের কাছে বেড়াতে যাচ্ছিলেন তিনি। মেয়ের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর আসে তাঁর মৃত্যুর খবর।

শুক্রবার সকালে উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বিবি (৭৯)। গাড়িটি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায়।

দুর্ঘটনার পর ফিরোজাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ভর্তি করা হয় বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম নিজামুদ্দীন সরকার (মৃত)। তাঁর দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।

স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিরোজার বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম ও ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।

জাকির হাসান নামে ফিরোজার এক স্বজন বলেন, বড় চাচা (নিজামুদ্দীন) মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন চাচি (ফিরোজা)। বিঘা দুয়েক জমি চাষাবাদ করে সংসার চলত। গুজিয়ায় বড় মেয়ের কাছে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ধরতে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন চাচি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তবে স্বজনেরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। এ নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান জাকির হাসান। তাঁর ভাষ্য, ফিরোজা বয়স্ক ছিলেন। অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এটি নিছক দুর্ঘটনা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *