সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেফতার

✍︎ নেত্রকোনা প্রতিনিধি ✍︎

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যা মামলায় সাজিবুল ইসলাম অপূর্ব (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পৌর শহরের মধ্যবাজারের সিনেমা হল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।অপূর্ব পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে অপূর্বকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্গাপুরের পুলিশ সদস্য মো. শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বের হন।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল, রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।

এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।

বৃহস্পতিবার লুৎফুজ্জামান তেলনজিয়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি দোকানে চা খেয়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই যুবকেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *