শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার আসামি জিতু গ্রেফতার

:: নাগরিক নিউজ ডেস্ক ::

ঢাকার আশুলিয়ায় কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  

শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন নিশ্চিত করেছেন। 

উজ্জ্বলকে গ্রেফতারের পর উপপরিদর্শক এমদাদুল বলেন, উৎফল কুমার সরকার মারা যাওয়ার দিন গত রোববার তার বড়ভাই অসীম কুমার সরকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আফরাফুল ইসলাম জিতুকে প্রধান করে হত্যা মামলা করেন। এজহারে অজ্ঞাতনামা অনেককেই আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওই মামলায় প্রধান আসামির বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। 

এদিকে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে আশুলিয়ার সব স্কুলের শিক্ষকরা। বুধবার জামগড়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে টঙ্গী ইপিজেড সড়কে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় তারা বলেন, প্রতিটা স্কুলের শিক্ষকরা এখন কিশোর গ্যাং আতংকে রয়েছে। প্রশাসনের প্রতি শিক্ষকদের অনুরোধ যাতে কিশোর গ্যাং থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুক্ত রাখে। নয়তো উৎপলের মতো অনেক ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় তারা হত্যায় জড়িত মূল হোতাসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

এর আগে গত শনিবার দুপুরে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার হন উৎপল কুমার সরকার। সভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত উৎফল কুমার সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এলংজানি গ্রামে। 

জিতুর বাবা রিমান্ডে

ঢাকার আশুলিয়ায় আলোচিত কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা উজ্বল হোসেনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ঢাকা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত- ৩ এর বিচারক শেখ মুজাহিদুল ইসলাম তাকে রিমান্ডে পাঠান। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বুধবার ভোরে উজ্বলকে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকা মুখ্য বিচারিক আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত। 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বুধবার ভোরে উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে আশুলিয়ার সব স্কুলের শিক্ষকরা। বুধবার জামগড়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে টঙ্গী ইপিজেড সড়কে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় তারা বলেন, প্রতিটা স্কুলের শিক্ষকরা এখন কিশোর গ্যাং আতংকে রয়েছে। প্রশাসনের প্রতি শিক্ষকদের অনুরোধ যাতে কিশোর গ্যাং থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুক্ত রাখে। নয়তো উৎপলের মতো অনেক ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় তারা হত্যায় জড়িত মূল হোতাসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

এদিকে, শিক্ষক হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদার।

বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুছ আলী কলেজ পরিদর্শনে এসে সংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এসপি জানান, তিনি কলেজটিতে এসেছেন শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে। যাতে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না হয়ে স্বাভাবিক থাকে। সেসঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কী কারণ ছিল, তা সরজমিনে দেখার জন্য। 

তিনি  আরও জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তদন্তে বিষয়গুলো উঠে আসবে।

মামলায় অভিযুক্তের বয়স কম দেখানো হয়েছে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, মামলায় কী দেখানো হল এটা গুরুত্বপূর্ণ না, প্রয়োজনে ডাক্তারি পরীক্ষা করে বয়স নির্ধারণ করা হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ডাক্তারি পরীক্ষা করে বয়স নির্ধারণ করতে সহয়তা করে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এসপি জানান, মামলার তদন্তে ধীর গতির কোনো কিছু নাই। জানানোই হয়েছে ঘটনার দিন রাতে। যখন জানানো হয়েছে তার পরবর্তীতেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ধীর গতির কিছু নাই, পুলিশের কার্যক্রম প্রথম থেকেই স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। এরই মধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।  এ ঘটনায় এরই মধ্যে মামলার যে মূল আসামি তার বাবাকে কুষ্টিয়া থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া খুব শীঘ্রই মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি। 

এ সময় ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, আশুলিয়া থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *